হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

কুয়াকাটা ট্যুর – kuakata tour (১ম পর্ব)

এবার ইচ্ছে ছিলো – মটরেবল একটা দুর্গম পার্বত্য জায়গায় যাওয়ার। বেশ রিস্কি বলা চলে।  যাবো আমরা ২ জন – ২ টা বাইক। সকাল ৮ টায় রিপোর্টিং। রাতের বেলায় ব্যাগ গুছিয়ে নিয়েছিলাম। ডে লং। তবে বেগ নিয়েছি – কোণ কারনে যদি থাকতে হয়…

২৪ তারিখ – শুক্রবার

সকাল ৮ টায় ফোন দিলাম – নো আনসার। এরপর ৯ টা পর্জন্ত ফোণ দিলাম। কোন খবর নেই। মেজাজ খারাপ করে লাভ নেই। এটা শিখলাম – নতুন কারো সাথে ট্যুর করতে গেলে ভরসা করা যাবে না।

ঢাকায় যেহেতু বাইক শো হচ্ছে – ভাবলাম আগে ঢাকায় যাই। পরে দেখা যাক কোথায় যাওয়া যায়। ঢাকায় পৌঁছে বেইলি রোড এ গেলাম – অনেক দিন পর। চা টা খেলাম। এক সময় প্রায় ই আসা হত যখন ঢাকায় ছিলাম।

এখান থেকে চলে গেলাম “বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল সিটি কনভেনশন সেন্টার”। বিশাল জ্যাম। যাক টিকেট কেটে ঢুকে গেলাম। ভালই লাগলো – কারন বাইক শো। কিন্তু দেখলাম বাইকের এক্সেসরিস এর তেমন কোণ শপ নেই। অথচ এটা খুব ই গুরুত্তপুর্ন। আমাদের প্রায় ই এটা সেটা কিনতে হয় – এবং নিজের শহরে না থাকার কারনে অনলাইন থেকে না দেখেই কিনতে হয়। এরপর ইয়ামাহার ডিলার এ সি আই এর কোণ শপ নেই। আজব। এরা নাকি ইয়ামাহার ডিলার। আগেরটাই ভাল ছিলো।

মাসুম ভাই ও এলেন। ঘুরলাম একসাথে।  তিনি আমাকে LS2 হেলমেট নিয়ে দিলেন। থ্যাংকস ভাই। হেলমেট ইউজ করি LS2 – তাই ক্যাপ টা পেয়ে খুব ভাল লাগলো।

অনেকের সাথেই পরিচয় করিয়ে দিলেন।

এরপর আমরা সবাই বের হয়ে বাইক নিয়ে ৩০০ ফিট গেলাম। ওখানে চা/ আড্ডা হল। পাশেই এক গ্রুপ গান করছিলো গিটার নিয়ে। আমিও গান করলাম ৩ টা। বহুদিন পর।

এরপর সবাই ৩০০ ফিট থেকে আরো সামনে গেলাম – আরে বাপরে – সব মিস্টির দোকান। নানা সাইজ। নানা রঙ। কোল বালিশ সাইজ এর ও দেখলাম।

ওখানে আড্ডা চলল। ছিলো মাসুম ভাই, আর ডি অমিও ভাই, সাগর ভাই, আবু সাইদ ভাই, জান্নাত ভাই (পরে এসে জয়েন করেন), সুব্রত ভাই আরো ২/৩ জন।

আড্ডা চলছে ৩০০ ফিট pc: Mohammad Masum Al Mizan

সবাই অনেক মজা করলো। ভাল লাগলো।

ফেরার পথে মাসুম ভাইরা প্রথমে গেলেন – এক্টূ পর আমি আর ডি অমিও আর আবু সাইদ ভাই এক সাথে গেলাম। সাইদ ভাই হুইলি মারতে লাগলো যাওয়ার সময়।

রাতে আমি আমার এক কাজিনের বাসায় উঠলাম।

২৫ তারিখ।

মাসুম ভাই এর সাথে প্ল্যান করা ছিলো। সকাল ৭ঃ১৫ তে রিপোর্টিং TSC তে। মাসুম ভাই এক্টূ লেট করে এলেন। আমি এর ভেতর নাস্তা সেরে নিলাম নীলখেত এ।

এরপর নাসির উদ্দিন ভাই এলেন –  ভিকি ভাই কে নিয়ে এসে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তিনি আমাদের সাথে যাবেন। নাসির ভাই এর বাইকে সমস্য – আর অফিস। তাই যেতে পারবেন না।

About to start the journey. pc: Mohammad Masum Al Mizan

৩ টা বাইকে আমি মাসুম ভাই আর ভিকি রওনা হয়ে গেলাম। ২ টা ফেজার ১ টা R15.

মাওয়া পার হয়ে ফেরি ধরলাম –  পার হয়ে খুলনা রোড – দেখেই মন ভাল হয়ে গেলো। কি দারুন – ওয়াইড, আর মসৃণ। শুরু করলাম টান।

আমার বেল্ট এ ঝোলানো একটা ব্যাগ থাকে – যাতে মোবাইল রাখি। চলন্ত বাইকে হটাত দেখি পায়ের সাথে কি যেন বাড়ী খেলো। হাত দিয়ে দেখি মোবাইল নেই। বাইক ঘুরিয়ে খুজলাম। নেই।

এরপর যখন ফিরছি – একটা গেরেজের ছেলে বলল একটা ইট বাহী ট্রাক থেকে একটা ছেলে উঠিয়ে নিয়ে গেছে।

– আপনি দেখলে চিনতে পারবেন?

– জি। পারমু।

–  উঠেন। চলেন।

– লন দেখি।

দিলাম সেই টান। ১০ কিমি যাওয়ার পর একটা সাব রোড এ দেখি একটা ট্রাক যাচ্ছে, জার পেছনে ইট।  সাথে সাথে বাইক ঘুরিয়ে ওই রোড ই নিয়ে ট্রাক এর সামনে থামালাম। বলার সাথে সাথেই মোবাইল দিয়ে দিলো।

জিজ্জেস করলাম – মোবাইল নিয়ে চলে এলো ক্যান?

উলটাপালটা কথা শুরু করলো। দেরি হবে বলে জনগণ এর হাতে দেই নাই।

মোবাইল তেমন কিছুই হয় না। সামান্য এক্টূ দাগ কর্নারে। (মটোরোলা G4 plus)।

গ্যারেজে ওই ছেলেকে নামিয়ে দিয়ে – কিছু চা নাস্তা খাওয়ালাম।

পরে সামনে গিয়ে মাসুম ভাই দের পেলাম। ওনারা একটা টং এর দোকানে ওয়েট করতেছিলেন।

আবার শুরু। রোড দেখে ফিদা হয়ে গেলাম। অসাধারন। সেই। ইচ্ছে মত টানলাম।। বিশাল কিছু ব্রিজ পার হলাম। বেশ ভাল লাগলো।

এরপর একজায় থামলাম – ভিকি’র বাইকের পেছনের টায়ারে প্রবলেম। ১৭ টা পেরেক পাওয়া গেছে।

উনি বাইক ঠিক করতে গেলেনে।   আমরা ২ জন টান দিলাম। নাহলে সান সেট পাওয়া যাবে না।

ঠিক সন্ধ্যার আগে পউছালাম।

ওখানে কিছুক্ষণ থেকে মাসুম ভাই ব্যাক করলেন। খুলনা যাবেন। ওনার পরদিন ডিউটি আছে তাই।

এরপর ভিকি কে বললাম আমি আছি কুয়াকাটা। চলে আসার জন্য।

আমি বিচ এ সময় টা কাটালাম। রাতে সাগরের তীরে রঙধনু ছাতার নিচে চেয়ারে বসে উপভোগ করছিলাম –  বাইক নামিয়ে পাশেই রেখেছিলাম। জীবন টা মনে হচ্ছিলো পুর্ন। আল্লাহর শোকর। আলহামদুলিল্লহা। এরপর মাছ সাজিয়ে রাখা হয়েছিলো। ফ্রাই করে দিলো। ভালোই লাগলো।

চেয়ারের পাশে তানভীর নামে ঢাকার এক ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়ে গেলো। তিনিই গল্প শুরু করে দিলেন – ভাই কি ঢাকা থেকে এসেছেন বাইক নিয়ে ? ভাল লাগলো।

এরপর ভিকি এলেন। তখন সাড়ে ৯ টা বাজে। আবার আরেক দফা মাছ খেলাম। এরপর কিছুক্ষন থেকে আমরা হোটেল খুজতে বের হলাম। ২/৩ টা হোটেল দেখার পর আল্লহার মেহের বানিতে একটা সুন্দর মত হোটেল পেয়ে গেলাম। মালিক ভদ্রলোকের সাথে গল্প জুড়ে দিয়েছিলাম – তিনি ৪০% দাম কম রাখলেন। হোটেলের নাম “আমান” – এটা রাখাইন মার্কেট এর পিছনেই (হোটেল গ্রান্ড কুয়াকাটার গলিতে ঢুক্তে হবে)। ভাড়া ডাবল নিলো ৮০০। ছিমছাম রুম। অন্য হোটেল হলে কুয়াকাটার রেট অনুযায়ী কম করে ১৫০০/২০০০ হবে। সারা বাংলাদেশে মনে হল এখানেই হোটেলের দাম বেশ চড়া।

এরপর আমরা ফ্রেশ হয়ে – খেতে বের হলাম। নানারকম ভর্তা দিয়ে বেশ ভালই লাগলো রাতের খাবার।

২৬ মার্চ

আমরা ভোর ৫ টায় উঠে ৫ঃ৩০ এ রওনা দিলাম। স্থানীয় কিছু বাইক ভাড়া পাওয়া যায়। এরা ভাড়া নিয়ে যাবে। এদের সাথেই যাবো – সান রাইজ দেখার জন্য।

প্রথমে রোড এ কিছুখন চালিয়ে বিচ দিয়ে যাওয়া শুরু হল। দারুন লাগছিলো। প্রচুর বাইক যাচ্ছে। সব প্লাটিনা। 😀 এরপর একজায় দেখি নৌকা পার হতে হবে। আরে লাইন। ৩/৪ টা নৌকা – কার আগে কে নৌকায় তুল্বে। যাক তুলতে পারলাম।

ওপারে গিয়ে কিছু দারুন অদ্ভুদ  কিছু গাছের ভেতর দিয়ে  গিয়ে আবার বিচ দিয়ে টানা। গেলাম লাল কাকড়ার চর।

*কাকড়া দেখতে হলে বিকেলের দিকে যেতে হবে।

বিচ এর তীর ধরে বাইক চালানোর অনুভুতি অন্যরকম। এর আগেও চালিয়েছি। যেহেতু চট্টগ্রাম এর ছেলে – সাগর আমাদের ঘিরেই আছে।

যাক অবশেষে সেই প্রতিক্ষিত সূর্য উদয় হলো। !!!!!! কি দারুন উজ্জ্বল কমলা হয়ে গেলো। মনে হলো খুব কাছে। এত কাছে কখনো সুর্জ টাকে দেখিনি।

আমরা বিচ দিয়ে গিয়েছিলাম – ফিরলাম অন্য পথে – রোড এ। দারুন সেই পথ।

মাঝে সুর্জমুখি বাগান পেলাম। খুব ভাল লাগলো।

হোটেলে ফিরে একটু রেস্ট নিয়ে বিচ এ গিয়ে সাগরে ঝাপিয়ে পড়লাম। খুব রিফ্রেশ লাগছিলো।

এরপর রেডি হয়ে হোটেল চেক আউট করলাম। মালিক ভদ্রলোক গাছের কলা পেড়ে নিয়ে এলেন – কি যে আপ্যায়ন করলেন বলার মত না।

কুয়াকাটা যাবার পথে এই রান ওয়ে টা পড়েছিলো

*আমি কথা বলে এসেছি।  আপনারা  (বিশেষ করে বাইকার ভাই রা) গেলে – রেফারেন্স দিলে  আশা করি ইনশাআল্লাহ্‌ কম রাখবে।

এরপর আবার টান। আরেহহহহ বাহ। পুরা রোড দেখি খালি। ২৬ মার্চ। আর রোড তো মাখন রোড।

এমন টান দিলাম – ফেরি ঘাটে আমি আধা ঘন্টা আগেই চলে এলাম – এসে ওয়েট করতে লাগলাম ভিকির জন্য 😀

ওখানে চিংড়ি ভুনা দিয়ে খেয়ে আবার রওনা দিলাম। যাবো খুলনা।

পথে একবার নামাজ – আর আরেক বার ব্রেক দিলাম চা নাস্তার। অন্ধাকারে আমি আবার এক্টূ টেনে আসছিলাম – ২০/৩০ মিনিট পরে দেখি ভিকি চলে এসেছে – বেশ অবাক হলাম। গুড রাইডিং ইন্ডিড।

খুলনা প্রিয় রূপসা ব্রিজ পৌঁছে ডাব খেলাম। ভিকির কাজিন এলো।

(to be continued……)

২য় পর্ব – এখানে পড়ূন

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Join 259 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: