হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

উত্তর বংগ ট্যুর (২য় পর্ব )

(যারা ১ম পর্ব পড়েন নি – এখান থেকে পড়ে নিতে পারেন)

হাইলাইটস

সাতক্ষিরা –  আহসানিয়া মিশন – সাগর দাড়ি – মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ী – কপোতাক্ষ নদ – মন্টূ মিয়ার বাগান – নীল ডুমুর – সুন্দরবন

৪র্থ দিন (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ – বৃহস্পতি বার)

পরদিন সকাল ৮ টা করে আরেফিন ভাই (বাইক – হাঙ্ক) আর আমি নাস্তা করে রওনা দিলাম মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ির উদ্দেশ্য। সাগর দাড়ি তে। একি সাথে দেখা হয়ে যাবে কপোতাক্ষ নদ। ঠিক হয়েছে আজকের দিনের ট্যুর এ তিনি আমার যাবেন।

আমি যা করছি – খুলনা কে ষ্টেশন বানিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে আবার দিন শেষে চলে আসছি। যাই হোক –

*সোলো ট্যুর এর একটি লাভ হলো বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন মানুষ ও বিভিন্ন  বাইকার দের সাথে পরিচয় হয়,  ট্যুর করা যায়। কত জায়গায় কত কত মানুষের সাথে পরিচয় হয়ে পরে ট্যুর দেয়া হয়েছে।

আর তাছাড়া একটা গুরুত্ত পুর্ন ব্যাপার হলো সংস্কৃতির একটা বড় অংশ হলো মানুষ জন। তাদের সাথে মেলা মেশা – ২ দন্ড কোথাও বলে আলাপ সালাপ করা যায়। এটা আমি প্রায় ই করার চেষ্টা করি। আর এতে এমন অনেক কিছু জানা যায় – যা সাধারনরন বইয়ের পাতায় গুগল এ থাকে না। এছাড়া কোন বিশেষ জায়গা/ দর্শনীয় স্থান এর কথাও জানা যায়।

যাওয়ার পথে তিনি আমাকে একটা জায়গায় নিয়ে গেলেন – আহসানিয়া মিশন। মনে করেছিলাম কি হবে এই সব মিশনে গিয়ে – কিন্তু গিয়ে অবাক হলাম। এত সুন্দর ছবির মতো একটা জায়গা। চারপাশ মনে হয়ে কয়েক লক্ষ ফুল দিয়ে ঘেরা বাগান। যে কেউ খুব মুগ্ধ হবেন। আরেফিন ভাই নিচে ছিলেন। আমি জুতা খুলে চারপাশ ঘুরে এলাম।

img_20170216_144159300

img_20170216_143720271

img_20170216_144327442-copy

img_20170216_143735082-copy

যাক এখান থেকে এবার যাওয়া যাক কবি মাইকেল এর বাড়িতে।

কাছাকাছি পৌঁছে মেইন রাস্তার পাশে বিশাল এক গেট। যাতে কবির একটা কবিতা “কপোতাক্ষ নদ” খোদাই করা। ওখান থেকে টার্ন নিয়ে সাগর দাড়ি ১০ কিলো পথ।

img_20170216_100005199

img_20170216_093604594

টিকেট কেটে ঢুকলাম ২ জন।

প্রবেশ গেট

প্রবেশ গেট

বাড়ির সামনে পুকুর আছে। এক পাশেই আছে পৈত্রিক বাড়ী। আছে লাইব্রেরী। ওখানে ঢুকে মাইকেল ভাই এর ইতিহাস জানার চেস্টা করলাম। হায়। সব ইতিহাস আছে – ওনার ইতিহাসের কোন বই নাই। সব বই বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত নিয়ে।

 

থাক মাইকেল ভাই টেনশান নিও না। পরে জেনে নিবো। 😀

*যা জানলাম পরে*

মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর শৈশব কাটিয়েছেন এই নদের তীরে। পরবর্তীতে তিনি যখন ফ্রান্সে ছিলেন, শৈশবের কথা স্মরণ করে প্রখ্যাত কপোতাক্ষ নদ নামের সনেট (চতুর্দশপদী কবিতা) রচনা করেন।

শুরুটা এমন ঃ

সতত, হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত (২৫ জানুয়ারি, ১৮২৪ – ২৯ জুন, ১৮৭৩) ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার। তাঁকে বাংলার নবজাগরণ সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব গণ্য করা হয়।

ওখান থেকে কাছেই গেলাম কপোতাক্ষ নদ। এই সেই নদী – যেখানে কবি তার শৈশব কাটিয়েছেন।

কপোতাক্ষ নদ

কপোতাক্ষ নদ

ছোট ছোট ছাউনি দেয়া নৌকা পাওয়া যায়। আমরা ৩০ টাকায় ২ জন চড়ে বসলাম। বেশ উপভোগ করলাম এই নৌকা ভ্রমণ। খুব শান্ত জায়গাটা। একটা জায়গা কে দেখিয়ে মাঝি বললেন এটা হল “বিদায় ঘাট” – কবি নাকি এই ঘাট দিয়ে চলে গিয়েছিলেন বিদেশে রাগ করে। একটা ফলক আছে কবির ঘাট টি তে।

 

 

দুঃখের ব্যাপার ঃ দেখলাম কি এক যমুনা ফিউচার পার্ক না কি একটা করবে। যন্ত্র গিলে খেলো আমাদের 😦

img_20170216_104830026-copy

যাক কবি ১৩ বছর এখানে কাটিয়ে কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন। পরে ওখান থেকে লন্ডন হয়ে ফ্রান্স। পরে এক সময় আবার দেশে ফিরে আসেন। প্রথম বিয়ে ৮ বছর স্থায়ী হয়। তারপর এক ফরাসি রমনি কে বিয়ে করেন।

কবি হিন্দু থেকে ক্রিস্ট ধর্ম গ্রহন করাতে তাজ্য পুত্র করেছিলেন তার ধনাঢ্য পিতা। তবে আইন নিয়ে লিখা পড়ার খরচ ঠিক ই চালিয়েছেন।

যাক ফিরে এলাম। মাঝে এক খানে হটেলে বসে ঝাল নাস্তা করে নিলাম। এরপর গেলাম মন্টু মিয়ার বাগান বাড়ী।

মন্টু মিয়া নামের এক লোক বিশাল জায়গা জুড়ে অনেক কিছু করছে – চিড়িয়া খানাও আছে। টিকেট ৫০ টাকা করে।

img_20170216_125617246-copy

img_20170216_125123424-copy

এই জায়গাটা আমার একদম ভাল লাগেনি। যে আমাকে জায়গাটা এডভাইস করেছে – আসলে আমার টেস্ট জানা নেই। এটা একটা ফ্যামিলি প্লেস – যেমন শিশু পার্ক, ফেন্টাসি কিং ডোম। এসব জায়গা আসলে আমাকে একদম ই টানে না। হ্যাঁ। ফ্যামিলি নিয়ে গেলে সেটা অন্য ব্যাপার। যাই হোক  বেশিক্ষন থাকিনি।  ভেতরে মসজিদ ছিলো। নামাজ পড়েই রওনা দিয়ে দিলাম। তখন ২ঃ৩০ এর মতো বাজে।

এরপর গন্তব্য নীল ডুমুর।

এই জায়গাটা নাকি এক সময় রেস্টিকটেড ছিলো। এখন আসা যায়। বের দুরের জার্নি। প্রায় ১০০ কিলো হবে। আর রাস্তাও বেশ অফ রোড আছে।

মাঝে পড়লো “ভোমরা বন্দর”। আসার পথে যাবো ভেবেছিলাম – কিন্তু যাওয়া হয় নি। বাকি আসলে না করাই ভাল। সব নগদ নগদ। এই জন্যই দোকান দ্বার রা লিখে রাখে “বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না”।

যাক ৪ টার দিকে পৌঁছে গেলাম “নীল ডূমুর।” মাঝে কিছু পথ অসাধারন রকম সুন্দর ছিলো। খুব জোরে টেনেছি।

img_20170216_154840534-copy

img_20170216_173840743_hdr

জায়গাটা সুন্দর বনের একটা প্রবেশের পয়েন্ট। কাছাকাছি গিয়ে প্রচুর ম্যান গ্রোভ দেখতে পেলাম।

ওখানে গিয়ে শুনলাম শেষ বোট ৩ টা ছেড়েছে ৩ টার দিকে। গেলে রিজার্ভ নিতে হবে। কিন্তু আবার শুনলাম জল দস্যুর ভয় আছে।

img_20170216_155523039

img_20170216_170049540_burst000_cover_top

কি করা। হোটেলে আমরা ভাত খেয়ে নিলাম।

এবার ফেরার পালা। ফেরার পথে অন্য একটা পথ দেখলাম ডানে চলে গেছে। সময় না থাকাতে পথ টা এক্স প্লোর করতে পারলাম না…তবে খুব ইচ্ছে করছিলো… তো আমরা অন্য একটা পথে ফিরে আসার জন্য রওনা দিলাম। অর্ধেক পর্জন্ত (মেইন রাস্তা) কি যে সেই পথ – দারুন!!! সেই রকম মজা পেলাম। ২ পাশেই যত দূর চোখ যায় খোলা দিগন্ত আর ধান খেত। খুব বাতাস। ভাল লাগছিলো খুব।

img_20170216_174657477

তবে যখন মেইন রোড এ আসলাম –  বাকি পথ 😦 😦 😦 শরীররে হাড় গোড় সব নড়ে গেছে। এমন অফ রোড রে বাবা।

মাঝে চুক নগরে আব্বাস হোটেলে থামলাম – আর এক টা জায়গা মিস্টি আর দৈ খেলাম।

আবার রওনা। এক সময় রাত সাড়ে ১০ টা হবে- পউছালাম।

আলহামদুলিল্লাহ্‌।

৫ম দিন (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ – শুক্র বার)

মাসুম ভাই আগেই বলে রেখেছিলেন। প্ল্যান অনুযায়ী সকাল ৯ টায় আমরা মংলা থেকে সুন্দর বনের উদ্দেশ্য রওনা দেবো। খুলনা থেকে মংলা ৫০ কিলো। আমি ৮ঃ৩০ এর দিকে রওনা দিলাম মংলার দিকে। কি সেই পথ। দারুন!!!!!

img_20170215_115244772

৫০ কিলো যেতে আমার লাগলো ৩৫ মিনিট। তুফানের মত টানলাম। মংলা পৌঁছে চা খেতে লাগলাম। এক পাশের এক দোকানে। মোটামুটি বেশ টুরিস্ট আছে। সুন্দর বন যাওয়ার জন্য এখান থেকেই বোট নিতে হয়। বাইকের কাছে এসে দেখি R15 আমার বাইকের পাশেই পার্ক করা। তারমানে উনি আছেন। একটু পর দেখা হলো। আর এক গ্রুপ – মোট ৫ জনের সাথে পরিচয় হল। বেশ লাগলো দলটাকে। সবাই আবার ইঞ্জিনিয়ার। আমরা বোটে উঠে পড়লাম।টুরিস্ট সবাই সাধারণত যায় “করমজল” – ১ ঘন্টার পথ। তবে আমরা যাবো “হাড়বাড়িয়া” – এটা কিছুটা রিস্কি প্লেস। পারমিশন লাগে।

img_20170217_110020186

কারন এখানে বাঘের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আড়াই ঘন্টার পথ বেশ কাটলো গল্পে গল্পে।  আমরা সুন্দর বনের পাশ দিয়ে এগিয়ে চলছিলাম।

বেশ ভাল লাগছিলো – বিভিন্ন প্রানি দেখা যাচ্ছিলো – আর অনেক পাখি ও।

img_20170217_130736653_burst000_cover_top

img_20170217_130854273

একটা দেখলাম প্রায় কুমিরের সাইজের গুইসাপ। আর বিখ্যাত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল তো আছেই। অনেক বন্য ফল দেখলাম। ভাগ্য ভাল বিয়ার ভাই (বিয়ার গ্ল্রিস) ছিলো না। থাকলে কাম সারছিলো 😀 লাভ দিয়ে নেমে যাইত। মাসুম ভাই তার নকল করে একটু নাকি সরে কিছু কথা বললেন বিয়ার এর মত “এইটা হলো সুন্দরবন – ওই যে দেখা যাচ্ছে ৩ দিন আগে মরা জেব্রা – এখন আমরা ওটা খেয়ে ফেলবো – উহহহ – এমন পচা জিনিস খাওয়ার থেকে না খাওয়া ভাল” – সবাই একচোট হেসে নিলাম।  শুকনা খাবার/ পানি নিয়েছিলাম আমরা।  এক সম্য় পৌঁছে গেলাম। তখন ১ টা হবে। বোট থেকে নামতেই প্রচুর বানর আমাদের অভ্যর্থনা  করলো।

img_20170217_131630064

এদের দিকে এগিয়ে গেলে তেড়ে ফুড়ে আসে। অল্প কিছু টুরিস্ট (এদের সাহসী টুরিস্ট বলা চলে – এরাও আমাদের মতো বাঘের ভয় না করে এখান পর্যন্ত চলে এসেছে) ও আছে।

*বলে রাখি – এর চেয়ে বেশি রিস্ক আর এডভেঞ্ছার করতে চাইলে আছে হিরন পয়েন্ট। তবে গেলে রাতে ওখানে থাকতে হবে। আর তারচে বেশি এডভেঞ্চার চাইলে …থাক সেটা আর না বলি।

অনেকে বানর দের বন টন দিচ্ছে। যাক আমরা অফিসে গিয়ে পারমিশন নিলাম। ফি ও দিতে হল। মাসুম ভাই এর কারনে বেশ খরচ কমলো। বন্দুক ধারী একজন বন রক্ষি কে আমাদের সাথে দেয়া হলো। বাঘ মামা আসলে তিনি গুলি চালিয়ে আমাদের বাচাবেন।

বিসমিল্লাহ বলে আমরা ঢুকে পড়লাম সুন্দর বন এ।

মামা – আস্তাছি…

img_20170217_133151119

“বাঘ হতে সাবধান” – এই সাইন বোর্ড দেখে গা ছম ছম করতে লাগলো…

আরেক টু ভেতরে যাওয়ার পর দেখি দারুন এক কাঠের সরু ব্রিজ। চওড়া সাড়ে ৩ ফুট হবে। আর অনেক লম্বা। দারুন!!!! কাঠের ব্রিজ আমার সব সময় ভাল লাগে।

img_20170217_135241764_burst000_cover_top

এর ভেতর দিয়ে ই চলতে হবে। মাটি থেকে ৩/৪ ফিট উচু হবে। যেতে যেতে আমরা বাঘের পায়ের ছাপ পেলাম। হরিণের ও। মারামারি চিহ্ন।

BAGHER PAYER CHAP

BAGHER PAYER CHAP

chap

পথে এক খানে বিশ্রাম করতে করতে বন রক্ষি থেকে বাঘের কিছু গল্প শুনলাম। (এখান থেকে গল্পের ভিডিও দেখতে পারেন) শুনতে শুনতে বেশ ভ্য় লাগছিলো। এদিক সেদিক তাকাচ্ছিলাম – এই না বাঘ হাম্লে পড়ে। ভয়ের ব্যাপার হলো বাঘ আক্রমন করলেই শেষ। এই সব বন্দুকে কিছুই হবে না। শুধু আল্লাহ্ ভরসা। খ্রান। একটা বাঘের ছবি দেই।

tiger

ছবিঃ সংগ্রিহিত – নেট

আমি কিছুক্ষনের জন্য একটু আগে চলে গিয়েছিলাম। চারপাশে তাকাচ্ছি। হঠাত দেখি একটু দূরে একটা ঝোপ নড়ে উঠলো। বাঘ রা নাকি অনেক চালাক হয়। এরা অনেক দূর থেকে ট্রেক করে ওঁত পেতে থাকে – আর  জায়গামতো এটাক!! আরো দেখলাম হলুদ মতো কি একটা। আমার শরীর যে হিম হয়ে গেলো – কে যেন বরফ জল ঢেলে দিলো শরীরের উপর থকে নিচে – পরে দেখি হলুদ পাতা – দড়িকে সাপ মনে হয়েছে।

স্বস্তির শ্বাস ফেললাম। বাঘ না দেখলেই ভাল।

তাই প্রশ্ন করুন নিজেকে বাঘ কি সত্যিই দেখতে চান? দেখলে বাঘ কিন্তু আপনাকেও দেখবে 😀 😀 😀 আর জেনে রাখুন বাঘ খুব ই চালাক প্রানি – আর ভীষণ রকম নিঃশব্দে চলে। তাই সাধু সাবধান।

কাঠের ব্রিজ টা অনেক লম্বা। ১ কিলোর বেশি হবে। আমরা ঘুরে ফিরে এসে বোটে উঠে পড়লাম। ফিরে আসার পথে আবার কিছুক্ষনের জন্য বোট থামানো হলো “করমজল”। সাধারনত এখানেই টুরিস্ট রা বেশি আসে। প্রচুর টুরিস্ট দেখা গেলো। বেশির ভাগ ২ পেয়ে শঙ্খিনী। 😀 প্রথমে বুঝিনি। হা হা। পরে এ নিয়ে আমরা অনেক মজা করলাম। এক ভাই ছিলেন সাপ বিশেষজ্ঞ। উনি এ নিয়ে প্র-চু-র জ্ঞ্যান রাখেন। :p

এখানে কুমিরের প্রজনন খামার আর হরিণের আবাস ভুমি দেখলাম। এত ছোট কুমির জিবনেও দেখিনি। ১ বিঘা সাইজ ও আছে।

কুমিরের প্রজনন কেন্দ্র – করম জল

img_20170217_160347235_burst000_cover_top

হরিনের খামার – করমজল

এর আগে আমি কুমির দেখার জন্য একটা জায়গায় গোপনে ঢুকে পড়েছিলাম। এখানে দেখুন। (রহস্যময় কুদুম গুহা ও কুমিরের আক্রমন)

যাক এই তো। এখানে মসজিদ ছিলো। নামাজ পড়ে নিয়ে বোটে উঠে পড়লাম। ফেরার পথে বোট থেকে দেখলাম বৈধ পতিতালয়।

সন্ধ্যায় ফিরে এসে মাসুম ভাই চলে গেলেন। রাতে আবার আসবেন – মংলা পোর্টে আমাদের যাওয়ার কথা। আমি সবার অনুরোধে তাদের হোটেলে (হোটেল পশরা না কি নাম) ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিলাম।

পরে একজন চলে যাবার কথা সিরাজ গঞ্জ। ট্রেন ধরতে হবে ৭ঃ৩০ এর। তাদের কার ছিলো – কিন্তু গাড়িতে গেলে ট্রেন মিস হতে পারে। তাই আমি সেই ভাই কে নিয়ে খুলনা রেল ষ্টেশন এর দিকে দিলাম টান – খুব দ্রুত এসে পউছালাম। তখন কাটায় কাটায় ৭ঃ৩০ বাজে। জানা গেলো ট্রেন ৮ টায়। যাক বাঁচা গেলো।

বিদায় দিয়ে আমি আবার রূপসা ব্রিজ চলে গেলাম। ওখান থেকে গেলাম খাওয়ার হোটেলে। খেতে খেতেই আরেফিন ভাই চলে এলেন – চুই ঝাল গোশত খেয়ে কাজ করে ঘুম।

৬ষ্ঠ দিন (১৮ ফেব্রুয়ারি – শনিবার)

(এই দিন কোন ট্যুর হয়নি। শুধু বাইকের গ্যারেজে সময় কেটেছে। বাইকার না হলে না পড়াই ভালঃ) )

মাসুম ভাই এর সাথে প্ল্যান ছিলো সকাল সকাল আমরা চলে যাবো সরন খোলার দিকে রোড টা ডিস্কভার করতে। কিন্তু উনি ফোন ধরছেন না। ঘুমাচ্ছেন না বিজি কে জানে। যাই হোক আমি ইয়ামাহার একটা সার্ভিস সেণ্টার খুজতে খুজতেই ওনার ফোন। উনি পথে ছিলেন। তখন ১০ বাজে। মানা করে বললেন ওয়েট করতে। পরে আমাকে নিয়ে গেলেন ওয়াসিম ভাই এর গ্যারেজে।

উনি বাইক এ হাত দিলেন। এরপর ইতিহাস। দিন শেষে বাইক হয়ে গেলো বারুদের মত। সেই রকম পার্ফরমেন্স পাচ্ছিলাম। মাসুম ভাই টান দিয়ে বললেন আরে এখন তো দেখি আমার টাই কেমন জানি লাগছে।

বাইক অনেক স্মুথ হয়ে গেলো।

ওয়াসিম ভাইয়ের গ্যারেজে

ওয়াসিম ভাইয়ের গ্যারেজে

মাসুম ভাই কে ধন্যবাদ – এমন জায়গায় নেয়ার জন্য – তবে ওয়াসিম ভাই কে কিভাবে ধন্যবাদ দেবো জানা নেই। অনেক যত্ন নিয়ে আমার কাজ টা করেছেন।

এরপর পুরো উত্তর বঙ্গ আমি এই বাইক দিয়ে চষে বেড়িয়েছি – কোথাও বিন্দু মাত্র প্রবলেম করেনি। বাইক নেয়ার পর তো বেশ কয়েক বছর হল – এর ভেতর কত কত গ্যারেজে যাওয়া হইছে – কিন্তু ওয়াসিম ভাই এর কাজ দেখে মনে হলো শুধু খুলনা না বাংলাদেশের সেরা ৫ জনের ১জন মেকানিক হবেন নিঃসন্দেহে।

সেই ভাই সেই!!!!

সারাদিন তো কাটলো গ্যারেজেই। ওখানে পরিচয় করিয়ে দিলেন  পিয়াস ভাই এর সাথে।  বললেন রাজশাহী তে যাওয়ার জন্য। ওনার এলাকা। পরে জানলাম Ghost Riders Cafe ওনার।

যাক মন ফুরফুরে। বাইক ভাল থাকলে মন ও ভাল থাকে। আর তার ওপর এমন কাজ হলে তো কথাই নেই। এখান থেকে আমরা চলে গেলাম কামরুলের হটেলে। (জিরো পয়েন্টে) । সারাদিন সিঙ্গারা খেয়ে খেয়ে কেটেছিলো।

২ জন ঝাপিয়ে পড়লাম চুই ঝাল এর গোশত/ ভাত এর ওপর। সেই রকম স্বাদ। ওয়াহ ওয়াহ! ক্যান যে নাই এই জিনিস চট্টগ্রাম এ।

চুই ঝাল গোশত - সেই রকম স্বাদ।

চুই ঝাল গোশত – সেই রকম স্বাদ।

img_20170218_195134899

*এই খাবার এর আসল স্বাদ পেতে হলে যান কামরুলের হোটেলে – যে যা ই বলুক। অন্য কোন হোটেলে এই স্বাদ পাবেন না। ও হ্যাঁ। চুক নগরে আব্বাস হোটেলে পাবেন। Only Kamrul Hotels CHUI JHAL is REAL!!!

img_20170216_213449345

তারপর রূপসা ব্রিজ। ওখানে ওয়াসিফ আনোয়ার ভাই এলেন। বাইক বিডির স্টিকার গিফট করলেন। কিছুক্ষন থেকে চলে গেলাম। এরপর আমরাও গল্প সল্প করে বিদায় নিলাম। এটাই আমার খুলনাতে শেষ রাত। মাসুম ভাই এর সাথে শেষ দেখা এখানেই।

img_20170218_205825273

২ জনের ই আফসোস – একসাথে রাইড করা হলো না।

ফিরে এসে আমি রাতে চেকিং করলাম “হোটেল ব্রডওয়ে ইন্টারন্যাশনাল”। সেই রকম সার্ভিস। দারুন লাগলো। বেশ সুন্দর ও পরিচ্ছন।। ডিসকভারি ছেড়ে বিয়ার ভাই এর হাতির “শিট” চিবিয়ে “ইয়ে” খাওয়া দেখতে দেখতে কাজ করতে লাগলাম 😀

img_20170218_223209356

৭ম দিন (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)

———-

(চলবে……………)

৩য় পর্ব

Advertisements

2 comments on “উত্তর বংগ ট্যুর (২য় পর্ব )

  1. masum
    March 4, 2017

    awesome…..

    Like

    • Hassan Tanvir
      March 4, 2017

      Thanks…..

      Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Join 259 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: