হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

উত্তর বঙ্গ ট্যুর (১ম পর্ব )

এবার ১৪ দিন একটানা বাইক নিয়ে ট্যুর দিলাম। সর্ব মোট বাইক চালিয়েছি ৩ হাজার কিঃমিঃ।  এটাই আমার সর্বোচ্চ সোলো ট্যুর। শুরু করেছি চট্টগ্রাম থেকে। দেশের এক প্রান্ত থেকে  জেলার পর জেলা পার হয়ে – বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান গুলো দেখতে দেখতে চলে গিয়েছিলাম অন্য প্রান্তে। বাংলাদেশের একদম উত্তরের শহর তেতুলিয়াতে।

১ম দিনঃ (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)

কদিন থেকেই মন উড়ু উড়ু। সুযোগ খুজছিলাম বের হয়ে পড়ার। একটার পর একটা বাঁধা আসছে। ফেব্রুয়ারির ১৩ তারিখ বের হয়ে পড়লাম। বলে রাখি এই ট্যুর এর কোন প্ল্যান ছিলো না। শুধু ঠিক করেছিলাম খুলনা যাবো। ওদিক টায় যাওয়া হয়নি। সুন্দরবন ও দেখা হবে এই সুযোগে।

রাত্রিতে ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম।

বের হলাম তখন সকাল ১০ টা।

img_20170213_105703888

দেরি হলো কারন ভাল মত বাজার করে দিলাম। আমার ওয়াইফ আর ৩ বছরের একটা ছেলে কে রেখে পাড়ি জমালাম।

প্রথম ১০০ কিমি তে একটা ব্রেক দিলাম। এখন তো ঢাক- চট্টগ্রাম হাইওয়ে দারুন। ব্রেক দিলাম চা খাওয়ার জন্য। দেখি মুরগী আছে – দেখে মনে হচ্ছে ঝাল হবে। ব্যাস খেয়ে নিলাম। খুব ঝাল – কিন্তু ভালই লাগলো।

img_20170213_131213003_hdr

img_20170213_131545962

বাকি পথ টেনে ঢাকায় পৌঁছে শান্তিনগর চলে গেলাম। ঢাকাতে রাস্তায় মেয়েদের হলুদ শাড়ি আর মাথায় ফুল টুল দেখে মনে হচ্ছিলো কিছু একটা হবে – এ ছিলো পয়লা ফাল্গুন। আমরা বাঙ্গালিরা উৎসব ভালবাসি। ১২ মাসে ১৩ পার্বন। আর ঢাকা বাসি তো আরেক কাঠি বাড়া।

1

আমার তোলা নয় – নেট থেকে নেয়া।

দেখতে ভালই লাগছিলো। কিন্তু ছবি তোলার সাহস হয়নি।

যাই হোক  শিশির ভাই এর সাথে দেখা করবো। উনি আমাকে LS2 এর nose guard টা দেবেন। আমার টা হারিয়ে ফেলেছিলাম। তিনি বললেন উনি বের হয়ে গেছেন অফিস থেকে। আর আমার মোহাম্মদ পুর এ কাজ ছিল। তাই ঠিক হলো কাজ শেষ করে হাতির ঝিল এ দেখা করবো।

মোহাম্মদ পুর এ সারোয়াত ভাই এর শপ এ গেলাম রিং রোড এ। আগেই অর্ডার করা ছিলো – রেসিং কয়েল আর ডেটোনা প্লাগ।

ওগুলা ইন্সটল করে ওখানে কাছেই খাওয়া দাওয়া করে বাইক এর কিছু কাজ সেরে নিলাম।

special note for bikers: you can buy product from Sarwat vi (DRAG) but never do any kinds of works in this garage. They will say you need this, you need that- just to sell some products whether your bike is perfect and dont need any. 

img_20170213_213906502

ওনার দোকানের সাথেই গ্যারেজ – তাই।  এখান থেকে ফ্রেন্ড ফয়সাল এর সাথে ১৯ নাম্বার এ দেখা করে গেলাম জেনেভা ক্যাম্প এ। ওখানে গেছি তখন রাত ১ টা। বিরানি খেলাম। অসাধারন স্বাদ।  রাতে এসে গল্প করে ঘুম।

২য় দিন (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)

সকালে উঠে নাস্তা করে নিলাম। বাইক বের করতে দেরি হয়ে গেলো। যেখানে রেখেছি – ভাই এ ঘুম। সকাল ১০ টায় রওনা দিলাম। গন্তব্য খুলনা।

img_20170214_105506507

ফ্রেন্ড ফয়সাল ও বুলবুল ভাই।

প্রথমে চলে গেলাম মাওয়া ঘাট। ওখানে ৩ নং থেকে ফেরি ধরলাম। প্রায় ২ ঘন্টা লাগলো।

img_20170214_141107212

img_20170214_140752376

ওখানে একটা ফরেনার (আমেরিকান) পরিবারের সাথে পরিচয় হল। হায়। মেয়েটা কি যে সুন্দর। কিন্তু ছবি তোলা গেলো না। (বিস্তারিত – আমার ব্লগ এঃ http://wp.me/p2Yrbx-AP)

vlcsnap-2017-02-15-01h14m44s625

ভালই লাগলো। ফেরি থেকে নামার সময় উত্তেজনা কাজ করছে। আহ খুলনার রোড নাকি সেই। আসলেও তাই।

img_20170214_150922702 img_20170214_151843979

তখন বাজে ২ টা। নেমে খাওয়া দাওয়া – নামাজ পড়ে রওনা দিলাম। সেই রোড!!!! পথে পেলাম ”

sss

নিচে দেখি মেলার মত হয়ে গেছে।

আর গাছের উপরে ডার উইনের তত্তকে প্রমানে বেস্ত কিছু মানুষ – বাদর!!!! এক সময় ৬ টার দিকে রূপসা ব্রিজ পৌঁছে গেলাম। মাসুম ভাই এখানেই আসতে বললেন। এই ব্রিজ টা দারুন লাগলো। এটা হলো চট্টগ্রাম এর নেভাল বা ঢাকার হাউডির মত। খুলনা তে সবাই এখানেই আসে।

img_20170214_193812395

দারুন পরিবেশ। অবশ্য খুলনার একটা বাইক গ্রুপ – এরা যা শুরু করলো – বাপরে বাপ। স্টান বাজি, বোমা বাজি, মেয়ে নিয়ে লাফ ঝাপ – কি করে নাই। আশ পাশ গরম করে ফেললো। যাই হোক পরবর্তিতে আমি খুলনাতে জতদিন ছিলাম – সারাদিন ঘোরাঘুরি শেষে এখানে চলে আসতাম। মাসুম ভাই এলেন। অনেক দিন পর দেখা হয়ে ভালই লাগলো। শেষ একসাথে ট্যুর দিয়েছিলাম “নেইমাতা ঝর্না” – কাপ্তাই সিতা পাহাড় এ। এখানে সেই কাহিনী পাবেন।  কিছু বাইকার ছোট ভাই এলো। তাদের সাথেও চা খেতে খেতে গল্প জমে উঠলো।  ওরা আমাকে নিয়ে হোটেল ঠিক করে দিতে গেলো। কিন্তু থাকিনি। আরেফিন ভাই (ফ্রিলেন্সার – আমার লাইনের লোক) থাকার বেবস্থা করলেন। সাথে ল্যাপটপ ছিলো। রাতে কাজ করে ঘুমিয়ে পড়লাম।

img_20170215_004749578

৩য় দিন (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)

সকাল ৮ টার দিকে আরেফিন ভাই সহ নাস্তা করে নিয়ে রওনা দিলাম বাগেরহাট। দারুন রাস্তা।

img_20170215_101117506

বাগের হাট কে বলা হয় মসজিদের শহর। প্রচুর প্রাচীন মসজিদ আছে। প্রথমে গেলাম “সিঙ্গাইর মসজিদ।”। ১৫০০ সালের দিকে তৈরি।

img_20170215_124929058

img_20170215_125040086_hdr

খান জাহান আলী এই শহরে এই সব মসজিদ গুলো তৈরি করেছিলেন। এখান থেকে “রেজা খোদা মসজিস” ও জিন্তা পীর এর মসজিদ গেলাম।

img_20170215_130023638

img_20170215_130641372

তারপর কাঙ্ক্ষিত “ষাট গম্বুজ মসজিদ“। খুব ই সুন্দর – বিশাল এক মসজিদ।

img_20170215_145817478

পিছনে বিশাল এক দীঘি আছে। সামনে বাগানের মত করা হয়েছে প্রচুর ফুলের গাছ দিয়ে। মন ভাল হয়ে গেলো। ওহ এখানে বা পাশে গাড়ি পার্কিং (১০ টাকা) আর প্রবেশের জন্য টিকেট নিলো ৩০ টাকা। (সম্ভবত)। ভেতরে নামাজ পড়ে নিলাম।

img_20170215_145147645

img_20170215_151028826

img_20170215_151744874

এরপর দিঘির পাড়ে কিছুক্ষন বসলাম। বেশ কিছু টুরিস্ট আছে। তবে ভিড় নেই। এক পাশে জাদু ঘর ও ছিলো। কিন্তু যাই নি। এখান থেকে বের হয়ে পিছনের দিকে একটা রোড এ খান জাহান আলির বসত ভিটায় গেলাম। যাওয়ার পথে পড়লো “প্রাচীন পথ”।

img_20170215_153903880

img_20170215_153512583

এরপর চলে গেলাম খান জাহান আলির মাজার।

img_20170215_132342542

img_20170215_131423429_burst000_cover_top

খান জাহান আলির মাজার

মাজারের পিছন দিকেও বড় একটা দিঘির মত আছে – যেখানে কুমির আছে নাকি। এখানেও প্রচুর মানুষ। স্তানিয় রাই বেশি মনে হল।

জেনে রাখুন – এখানে প্রচুর ফটকা বাজ ঘুরে। টাকা হাতিয়ে নেয়ার ধান্দায়।

যাক বের হয়ে খাওয়া দাওয়া করে রওনা দিলাম পিরোজপুর এর উদ্দেশে। যাওয়ার পথে নতুন একটা রাস্তা (ডান দিকে) দেখে লোভ হল। আমার স্বভাব মত সেই রোড এ কি আছে দেখার জন্য বাইক নিয়ে দিলাম টান। আর তারপরের কথা আর কি বলবো। মনে হল রান ওয়ে।

img_20170215_172540776

কি দারুন মসৃণ পথ – আর খুলনার রোড সব সোজা সোজা – কিন্তু এই পথ টাতে কর্নারিং করতে পেরে ভালো লাগছিলো। আর তাছাড়া আমরা হলাম পাহাড়ে পর্বতে বাইক চালাই। কিছু হলেই চলে যাও কাপ্তাই রাঙামাটি – আর সাম্রতিক যুক্ত হওয়া ডীম পাহাড় (Highest Motor-able road in Bangladesh)  তাই আকা বাকা পথ হলে মনে হয় সব ঠিক আছে।

img_20170215_161449801

আরাম সে টানছি। পথে মাইল স্টন দেখলাম “সরণ খোলা ৫০ কিলো” কোন বড় গাড়ি নেই। স্তানিয় দের ভ্যান কিছু চলছে। এই দিকটা তে ভ্যান ই চলে বেশি – রিকশা নেই। পথে তাজা তাজা বরই খেলাম। খুব সস্তা। আর কি ভীষণ মিস্টি।

img_20170215_162942214_hdr

এক সময় রোড এর শেষ মাথায় পেলাম ফেরি। তখন ৫ঃ৩০ বাজে। ওখানে চা টা খেয়ে ব্যাক করলাম। সেই রূপসা ব্রিজ। মাসুম ভাই এলেন। ওনার কাল ও ছুটী নেই। যাক ওখান থেকে খেতে গেলাম বিখ্যাত “চুই খাল গোশত” খাওয়ার জন্য কামরুলের হোটেলে। সাড়ে সাতটায় ও গিয়ে পেলাম না। শেষ। পরে খেলাম “আরাফাতের হোটেলে”। খুবই সুস্বাদু মনে হল।

রাতে ফিরে আবার কাজ – ঘুম।

৪র্থ দিন (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)

(চলবে…)

২য় পর্ব

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Join 259 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: