হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

ডিম পাহাড় ট্যুর

এবারের ট্যুর টা ছিলো মাত্র ৩ দিনের। ২ টা বাইক নিয়ে আমরা ২ জন। একজন ২য় দিন চলে আসে। এটাই প্ল্যান ছিলো। তবে আমি থেকে যাই। থেকে যাওয়াটা কাজে দিয়েছে ভীষণ।

রূট ঃ (ডুয়েল)চট্টগ্রাম – বান্দরবন – ডিম পাহাড় – আলী কদম – কক্স বাজার – টেকনাফ

সোলো ঃ কক্স বাজার – ্রামু

মোট চালিয়েছি ৭২০ কিঃমিঃ

১ম দিন

সকাল 9  টায় বহদ্দার হাট ফ্লাই ওভার এর নিচ থেকে নাস্তা করে যাত্রা শুরু করি আমরা। ইশতিয়াক ভাই 25 একটু লেট।

কেরানি হাট ব্রেক দেই। ওখানে তিনি হর্ন এর প্রবলেম – গ্যারেজে ঠিক করান। তারপর আমরা বান্দরবন পৌঁছে রওনা দেই। আমি একটু আগে চলে যাই – চিম্বুক এর আগে থেমে পেপে খেতে খেতে ওয়েট করি। একটু পর চলে আসলে আমরা চিম্বুক গিয়ে লাঞ্চ করি। এরপর তিনি আবার হর্ন ঠিক করতে থাকেন – আমি নামাজ পড়ে নেই।

img_1093

এরপর আমরা নীল গিরি ক্রস করে বলি পাড়ায় ব্রেক দেই।

img_1050

তারপর খাড়া রাস্তা দিয়ে উঠতে উঠতে যেতে থাকি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ মটোরেবল রোড দিয়ে – ইসতি ভাই বাইক নিয়ে একবার পড়ে যান। অবশ্য বাইকে কোন দাগ পড়ে নি। আমি ছবি তোলার জন্য দাড়িয়েছিলাম এক জায়গায়। গিয়ে দেখি তিনি অনেক কস্টে বাইক ধরে রেখেছেন – বাইক প্রায় মাটির কাছে পড়ে যাচ্ছে। তিনি তুলতে পারছেন  না। তাড়াতাড়ি বাইক থামিয়ে সেটা তুললাম।

img_1074

এরপর ডিম পাহাড় এর ঠিক আগে একবার ব্রেক দেই।

img_1108

ডিম পাহাড় এ থামলাম। তাহলে এটাই সেই সর্বোচ্চ উচু রোড বাংলাদেশের। উপর থেকে সব খুব ছোট লাগছে। ভিউ টা অসাধারন পেলাম।

img_1125

img_1122

আবার রওনা দিলাম ৪ টা বাজে। আলী কদম দিয়ে আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। ইস্তি ভাই খিদার চোটে জোরে টানছেন 😀 আলী কদম পৌঁছে আমরা হোটেলে ভরপুর খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে রওনা দিলাম কক্স বাজার।

পৌঁছে চেকিং করলাম। হোটেল কক্স হিল্টন।

রাতে ১০ঃ৩০ এর দিকে বের হয়ে বিচ এর কাছে ভাজা মাছ খেলাম – টুনা ফিশ আর কাকড়া। ৪০০ + ১৬০ টাকা। এরপর সুগন্ধা বিচ এর চা দোকানে আড্ডা চললো বাইক নিয়ে।

২য় দিন

সকালে নাস্তা করে আমরা বের হয়ে পড়লাম ৮ টার দিকে।

এরপর মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ২ জন টানা শুরু করি – অসাধারন পথ। এক পাশে পাহাড় এক পাশে সাগর দিয়ে বাইক চালিয়ে যেতে অন্য রকম অনুভুতি হয়।

img_1153

ইসতি ভাই টপ স্পিড টেস্ট করলেন। যেতে যেতে একজায় সব ইটের টুকরা বিছানো – এরপর একজন আর্মি পারসন থেকে সুনলাম এই পথ ৩ কিঃমিঃ তারপর বাকি পথে বালু পাথর ইত্তাদি আছে। তাই আমি একটা শর্ট পথ দিয়ে (শাপলাপুর এর কাছে দিয়ে) টেকনাফ যাওয়া শুরু করি। ২৫ কিলো পথ।

এখানে বিশাল বড় বড় কিছু গাছ দেখতে পেলাম। খাড়া উঠে গেছে আসমানের দিকে। দারুন লাগলো।

img_1170

img_1174

এরপর টেকনাফ চলে এলাম। এখানে খাওয়া দাওয়া করে নিলাম। ১১ঃ৩০ মত বাজে। এরপর টানা শুরু করলাম – গন্তব্য উখিয়া। পথ ছিলো অসাধারন। দারুন মজা পাচ্ছিলাম। গতি অনেক বাড়িয়ে দিলাম। যেতে যেতে মাঝখানে (রাস্তার বা দিকে) চার কোনা একটা উচু মত কি যেন ছিলো। ৮ বাই ৮ হবে। হয়তো রাস্তা খুড়ে কাজ হইছিলো। ওইটা এর কাটানোর সুযোগ ছিলো না। সা করে বাইক উঠে গেলো প্রায় ৩ ফুট। ফেজার নিয়ে আমার প্রথম জাম্প। ভাল ভাবেই ল্যান্ড করলাম পৃথিবীতে 😀

এরপর এক গরুর মত গুতা লাগিয়ে দিচ্ছিলাম প্রায়। একটু ফাক দিয়ে বের হয়ে পড়ি। গতি বাড়ীয়ে টানার হ্যাপা কম না দেখি।

পরে গতি কমিয়ে নেই – ১৫ মিনিট পর ইসতি ভাই আসেন।

এরপর উখিয়া গিয়ে মিস্টি ঘর এ মিস্টি দিয়ে মুখ মিস্টি করি। ভালই।

img_1176

তারপর কক্স বাজার চলে এসে একটা চা দোকানে ব্রেক – এরপর ইসতি ভাই বিদায় নেন। আমি চোখের জল মুছে অস্রু সিক্ত নয়নে ওনার পথের দিকে তাকিয়ে থাকি। 😀

সোলো

এবার একা। একা ট্যুর আমার অনেক ভাল লাগে। এটা অনেকে বোঝে না – মনে করে এতে ভাল লাগার কি আছে। এটা অনেক টা “যেমন খুশী চলো” – যা ইচ্ছে তা ই করা যায় – যেদিকে ইচ্ছা যাওয়া যায় – থামা যায়।

img_1271

আমি কি করবো ভাবছিলাম – এরপর মেরিন ড্রাইভে যেতে যেতে পেরা সেইলিং চোখে পড়ে। এটা হিমছড়ির আগে দরিয়া নগর এ। ডিসাইড করলাম করবো।

ব্যাস। টিকেট কেটে ফেললাম।

কিছুটা সাহসের দরকার আছে।

প্রথম বার আকাশে উঠে গিয়ে “আসমান ছুয়ে দেখার ই অনুভুতি” হলো। পথিক নবি সম্ভবত পেরা সেইলিং করেই গান লিখেছেন “এমন যদি হতো আমি পাখির মত – উড়ে উড়ে বেড়াই সারাক্ষন”। 😀

img_1371-2

img_1196

ভিডিও টি দেখতে পারেন । এখানে ক্লিক করুন

কারন একবার চললেই একটা নেশায় পেয়ে বসে।

এরপর আমি জেট স্কি করি। পথে অনেক দাবড়াইছি – এবার সাগর 😀

ট্রেইনার আমার পিছনে ছিলো – দারুন মজা পেয়ে এরপর আমি একা করলাম।

img_1235

আমার খরচ হলো ১৫০০ + ৫০০। (আমি পরদিন ও আবার পেরা সেইলিং করি।)

তখন ৫ টা বেজে যায়। ওখান থেকে আমি ইনানি বিচ চলে যাই এক টানে – ২৫ কিঃলো পথ ভালই লাগলো।

বিচ এর মসজিদে মাগ্রিব পড়ে ওখানে কিছুটা সময় কাটাই। এক মহিলা বিশাল একটা ডাব কোলে নিয়ে বসে আছে। খেতে খেতে টায়ার্ড হয়ে গেছে মনে হয়।

৩ টা মেয়ে খালি পায়ে ঘুরছে – দারুন লম্বা।

যাক বিচ থেকে ফিরে আসি – কক্স এসে একটা হোটেলে চেক ইন করি।

রাতে বের হয়ে বাইক নিয়ে একটু ঘুরে বেড়াই।

৩য় দিন

পরদিন সকালে নাসতা করে চলে যাই রামু। ওখানে বৌদ্ধ মন্দির যাই।

img_1334

২ টা মন্দির আছে। আরেক টা হিন্দু দের। সম্রাট অসোক এর বিশাল একটা মূর্তি আছে।

এখান থেকে আরো ভেতরের দিকে চলে যাই – যেতে যেতে চোখে পড়ে হাতির এক বিশাল গেট। এলিফেন্ট গেট।

img_134288

img_1350

img_1347

এখানে চেক পোস্ট এ কথা বলে পারমিশন নিয়ে নিলাম – ভেতর দিয়ে বের হয়ে উঠবো কক্স বাজার – টেক নাফ লিঙ্ক রোড এ। সেনা বাহিনীর ভেতর দিয়ে পথ ৬ কিলো মত।

কিন্তু পরে ঢুকবো বলে আমি আবার রামুর সেই আকা বাকা পথ ধরলাম – যেতে যেতে অনেক দূর চলে গেলাম –

img_1351

img_1358

মাঝখানে দেখলাম আর্মি কেম্প থেকে পথ টা মিলেছে। এখান থেকে কক্স বাজার একটা পথ চলে গেছে ২২ কিলো। আর মেইন টা মিশেছে টেকনাফ লিঙ্ক রোড এ। আমি অনেক ১০ কিঃমিঃ গিয়ে ব্যাক করলাম।

ফিরে এসে আবার চলে গেলাম বিচ এ – এবং ২য় বার প্যারা সেইলিং করলাম।

অসাধারন।

এই তো। ফেরার পথে চকরিয়া হয়ে বায়ে কুতুব দিয়া দ্বিপ যাওয়ার রোড এ ঢুকে গেলাম।

ওখান থেকে বাশখালি হয়ে চিটাগং চলে এলাম।

 

তাঁবু সাথে না থাকাতে কুতুব দিয়া দ্বিপ গেলাম না। নেক্সট টাইম ইনশাআল্লাহ্‌।

যাবেন নাকি? চলেন যাই।

 

 

 

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Join 259 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: