হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

টাঙ্গুয়ার হাওর, বিরিশিরি (Tanguar Haor, Birishiri) – ২য় পর্ব

Day 5

আমরা সকালে উঠেই ফ্রেশ হয়ে নিলাম।

img_1961

ইন্টারকমে জানিয়ে দিলাম চেক আউট করবো। রেডি হয়ে বের হয়ে পড়লাম। আহ আরো একটি ঝকঝকে দিন। যাত্রা শুরু করে দিলাম। সিলেট একটু ক্রাউডি। আমরা একটু পর শহর ছেড়ে বের হয়ে পড়ে বাইকের গতি বাড়িয়ে দিলাম। আমি ১১০/১২ এ টানতে লাগলাম। পথ গুলো বেশ মসৃণ।

img_2106

img_2132

আমাদের গন্তব্য সুনামগঞ্জ। মাঝখানে নাস্তার জন্য বিরতি দিলাম।

১১ঃ০০ ঃ আমরা পৌঁছে গেলাম সুনামগঞ্জ।

img_2065

এখানে একটু অঘটন ঘটে। সেটা এখন আর না বলি। এখান থেকে আমরা পথ ধরলাম তাহের পুর এর। কিভাবে টাঙ্গুয়ার হাওর যেতে হবে এই প্রশ্নের – একেক মানুষের একেক কথা – কেউ বলে পথে যেতে পারবেন না – বোটে যেতে হবে। কেউ বলে পারবেন। আর পথের বর্ননা শুনলে মাথা ঘুরান্টিস দিয়ে ওঠে। ডাইনে যাবেন, তারপর ১ মাইল পর বামে যাবেন – তারপর বাজার ওখানের সবচে চিপা গলি দিয়ে ডাইনে মোড় নিবেন…তারপর…চলতে থাকে… প্রায় পথেই এমন হইছে – এরা সবসময় একেক জন একেক কথা বলে – আবার মাঝে মাঝে নিজেরা ঝগড়া লেগে যায় – এ নিয়ে। অবশেষে আমরা তাহের পুর পউছালাম। আমি একটু আগেই চলে এলাম। এখানে নেমে দেখি বোটেই যেতে হবে। ৪/৫ জন বলে আমার টা নেন ভাল হবে। যাক ৩ ধরনের ট্রলার দেখে দামাদামি শুরু করলাম। এরি ভেতর আরেকটা বাইক এলো। আমরা খাওয়া দাওয়া করে নিয়ে দামা দামি শুরু করলাম। পরে ২৫০০ টাকায় রফা হলো। প্রথমে টেকের ঘাট নিয়ে যাবে – রাতে টাঙ্গুয়ার হাওর ঘোরাবে – রাতে বোটে থাকবো – আর সকালেও ঘুরাবে। ৪ টার দিকে আমরা পরীক্ষা দিতে বসলাম – বাইক তুলতে হবে ট্রলার এ। খুব খাড়া একটা পথ দিয়ে প্রথমে নামিয়ে নিলাম –

biketoboat

15350619_1361193923931343_8765871410322079318_n

এরপর লোক জন ধরাধ্রি করে বাইক ২ টাই তলে দিলো। বেধে ফেলা হল। ট্রলার ছেড়ে দিলো। কিছু দূর যাওয়ার পর আমার খুত খুত লাগতে লাগলো। পরে নৌকা থামিয়ে আরো দড়ি নিয়ে খুব ভাল ভাবে বেধে ফেললাম। এবার শান্তি।

15326524_1361339853916750_9038576703142624692_n

15822634_10208256416872430_8625169935601553318_n

আর যাত্রা শুরু হতেই মাথা নষ্ট হওয়া শুরু হলো। এত সুন্দর!!!! আল্লাহর কি অপুর্ব সব সৃষ্টি। মেইন হাওরে উঠতে ঘন্টা খানেক লাগে । এর ভেতর ই মাথা নষ্ট। মাঝে মাঝে চর – ওখানে অদ্ভুত এক রকম গাছ হয় – যেন অভ্যর্থনা করছে আমাদের।

2

 

img_2258

img_2447

আমরা এমন একটা ছোট দিপে বা চরে নামলাম। এখানে ওয়াচ টাওয়ার আছে। উঠলাম। বেশ ভিউ।

img_2500

এরপর সূর্য নামার প্রোগ্রাম করছে – এরপর যে আলোর কারসাজি চলতে লাগলো – আমরা বারবার বারবার শুক্রিয়া করতে লাগলাম এমন একটা জায়গায় এসেছি।

15895156_10208256416312416_6128726556545657613_n

 

 

তাশ্রিফ ভাইয়ের ক্যামেরা কি এক সমস্যা হইছে – বেচারা ছবি তুলতে পারতেছেনা – তার চোখ দিয়া পানি বের হয়ে পড়লো। দারুন কিছু ছবি নিলাম – আফসোস আমি আইফোন হারাই ফেলছি – তাই ছবি সব শেষ। 😦

 

15871511_10208256416992433_837718163851700385_n15822634_10208256416872430_8625169935601553318_n32

img_2505

img_2417

img_2395

img_2357

img_2419

প্রায় ২ঃ৩০ মিনিট আমরা চললাম – সন্ধ্যার পর ভীষণ শীত পড়লো। আমরা আরো গরম কাপঢ় পরে গল্প করতে করতে পৌঁছে গেলাম টেকের ঘাট।

তখন  ৬ টা। নেমেই বাইক নামিয়ে ফেললাম। এখানে ঠিক হলো মেজিস্ট্রেট্রের বাসায় বাইক রাখবো। আমরা গিয়ে ওনার সাথে দেখা করলাম। আরে বাপরে। অফ রোড কারে বলে। কথা বলে আমরা বাইক নিয়ে একটু ঘুরে দেখলাম। বর্ডার এলাকা। পরে বাজারে এসে ডিনার করে বাইক রেখে এলাম ওখানে। আর আমরা নউকাতে ফিরে গেলাম ঘুমানোর জন্য।

Day 6


সকালে মাঝিওয়ালা এক কাহিনী করে ফেললো। সে আর আমাদের ঘুরাবে না। টাকা লাগবে। এরা সিস্টেম বাজ।

যাক বাইক নিতে গেলাম। ম্যাজিস্ট্রেট যদিও বললেন তাদের ডেকে নিয়ে আসতে – আমরা আনিনি। থাক। অভাবি মানুষ এরা। তবে কমপ্লেন করে আসলাম। শুনলাম এই এলাকা পর্যটন এলাকা করার জন্য কথা চলছে।

সকালে আমরা গেলাম লাক্সিছড়া। পানির ঝিরি। এখানে একটা পথ আছে – যেখান থেকে চোরা পথে ভারতের কয়লা খনি থেকে কয়লা নিয়ে আসা হয়। প্রতি বস্তা ২৫০ টাকা। এখান থেকে ফিরে নাস্তা – তারপর বারেক টিলা। উচু একটা পথ দিয়ে উঠে গেলাম। পার হয়ে দেখি অনেক নিচে জাদু কাটা নদী। দারুন ভিউ পেলাম। একপাশে মেঘালয় পাহাড় ঘিরে আছে ।

15629003_10208147731195356_115449337_o

15659046_10208147730955350_488457245_o

আমরা ঢালু একটা পথ দিয়ে নিচে নেমে নদীর তীরে ঘুরে এলাম।

তখন বাজে ১২ টা। ১ টার দিকে আমরা রওনা দিলাম বিরিশিরির উদ্দেশ্য। আরে বাপরে। কি পথ। গ্রামের ভেতর দিয়ে দিয়ে এগুতে লাগলাম। এই সব গ্রাম গুলো মনে হয় পাহাড় কেটে বানাইছে। আর বাশের সাকো পার করছি ৬/৭ টা। অফ রোড। ৬ টায় আমরা পৌঁছে গেলাম বিরিশিরি। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছিলাম। এখানেও সেইম কাহিনী। বিরিশিরি কোথায় একেক জনের একেক কথা। পরে আমি নদীর তীরে চলে গেলাম। নামাজ পড়ে নিলাম। ফোন এ জোগাজোগ করে উকিল পাড়া নামে এক জায়গায় এসে আবার ২ বাইকের মিলন। খেয়ে নিলাম সবাই। এরপর YWCA নামে একটা হোটেলে উঠলাম। YMCA প্রথমে গিয়েছিলাম – কিন্তু খালি ছিলো না। এছাড়া রাস্তার পাশে সস্তা কিন্তু ভাল কিছু হোটেল ও আছে যেমন সর্না হোটেল।

এখানেও রুম নেই – পেলাম ডরমিটরি তে। মোট ১৬ টা সিট। সব খালি। আমরা ৩ জন মাত্র মানুষ। সেই জায়গা পেলাম। জায়গাটা বেশ। সামনে বারবিকিউ করার জায়গা আছে। তবে আরো বেস্ট হচ্ছে YMCA.

আর কোণ খানে জায়গা না পাওয়া গেলে মেইন রাস্তার পাশে কিছু ছোট গেস্ট হাউস আছে।

Day 7

সকালে উঠেই আমরা হোটেল চেক আউট না করেই রেডি হয়ে রওনা দিলাম বিরিশিরির চিনা মাটির খনি আর লেক দেখার জন্য। ব্যাগ বেগেজ রেখে বেশ হালকা লাগছিলো।

Ready to visit Birisiri@ YWCA

Ready to visit Birisiri@ YWCA

প্রথমে গেলাম বিজয় নগর। যাওয়ার পথে নৌকা করে পার হতে হলো। তবে বেশ সহজ।

15609260_10208147693154405_816554123_o

বাইক টান দিলেই নউকাতে উঠে যায়। অনেকেই এভাবে পার হয়। পার হয়ে আমরা নাস্তা করে নিলাম ঠিক ঘাটের সাথে লাগোয়া একটা ছোট হোটেলে।

15682262_10208147693434412_427783567_o

এখানে সব গারো অধিবাসি। দারুন সব গাছে ভরা রাস্তা সোজা হাতছানি দিয়ে টানছে।

বেশ কিছু দূর গিয়ে আমরা ঢুকে পড়লাম রাইঙ্খং দীঘি পার হয়ে একটা খ্রিস্টান দের কি যেন একটা।

15682461_10208147689634317_1378762861_o

15682041_10208147692994401_2050781213_o

বাইক নিচে রেখে ঘুরে এলাম। ডানেই দেখা যাচ্ছিলো জাদু কাটা নদী, পাহাড় আর তার উপরে বর্ডার হিসেবে তার কাটার বেড়া।

ঘুরে এসে আবার রওনা দিয়ে একসময় পৌঁছে গেলাম চীনামাটির লেকে। বিরিশিরি বলা হলেও এর অবস্থান আসলে বিজয় নগরে। পৌঁছে মুগ্ধ হয়ে গেলাম।

birishiri

পাথরের এই রঙ আসলেই ঠিক এমন।

এরপর আমরা আরো ভেতরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। অনেক দূর পৌঁছে আবার এক পাহাড় দেখে ঢুকে পড়লাম – অবাক হয়ে গেলাম যে মুল লেক যেখানে সবাই যায় তার চে হাজার গুন সুন্দর এইদিক টা। পাথরের ওপর নানা রঙ দিয়ে কোন শিল্পী যে একেছে কারুকাজ। আর পানির রঙ দেখে তো স্তব্ধ হয়ে গেলাম। এই রঙ এর নাম ঠিক জানা নেই। তবে নীল নয়। নীল মেশালি অন্য কোন রঙ। খুব খাড়া এক চিনা মাটির পাহাড়ে আমি রিস্ক নিয়ে উঠে গেলাম – পরে ২ জন ওঠার ট্রাই করে হাল ছেড়ে দিলো।

15609413_10208147684674193_548887880_o

চুড়াতে আমি। ইয়াহু।

উচু থেকে ভিউ গুলো দেখে দারুন লাগলো। প্রচুর ছবি তোলা হল।

15658586_10208147693314409_651063260_o

15658060_10208147689354310_1117608129_o

15658135_10208147687914274_1156020831_o

15657872_10208147688594291_869171758_o

ফিরে এসেই আমরা শাওয়ার নিয়ে ফ্রেশ হয়ে হোটেল চেক আউট করলাম। তখন প্রায় ২ টা হবে।

এবারের গন্তব্য দুরের। মইমন সিংহ হয়ে ঢাকার হাইওয়ে তে ওঠা।

আরে বাপরে বাপ। ২০ কিঃমিঃ পথ – আমাদের জীবন নিংড়ে নিলো। বিশাল বিশাল সব গর্ত – বালু কোন কোণ জায়গায় ১ হাত – ধুলোবালির ঝড় উঠছে – সমস্ত ট্রাক এদিক দিয়ে যায়। ১০ কিলো পথ গিয়ে আমি এক হোটেলে বসে খেয়ে নিলাম – নামজ পড়ে নিলাম। ফোন করে জানলাম ওরা একটু সামনে। পরে দেখা হলো ময়মনসিংহ ঢোকার পথে। তখন সন্ধ্যা নামছে।

জীবন যেন বাচলো। এবার মসৃণ পথ – ২২ কিলো। মাঝে নামাজ পড়ে নিলাম।

ময়মনসিংহ থেকে বিদায় নিয়ে ওনারা চলে গেলো ঢাকার দিকে – ছুটি শেষ। আমি ময়মনসিংহ শহর দেখার জন্য থেকে গেলাম।

উঠলাম হোটেল নিরালা তে। ভাড়া সিঙ্গেল ৬০০ টাকা। ওখানে আরো ২ বাইকার পেলাম। আলাপ জমে গেলো।

রাতে হোটেলের সামনে থেকে এক হোটেলে খেলাম।

Day 8 – SOLO

সকাল ৯ টার দিকে নাস্তা করে বের হয়ে পড়লাম। এবার আমি একা কুয়াশায় কিছু দেখা যায় না। প্রথমে গেলাম ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। অনেক আগে এক Pen-friend জয়া’র নিমন্ত্রণে এসেছিলাম :p ঘুরে দেখলাম। ছবি নেই। কারন ফোন হারিয়ে ফেলেছি।

এখান থেকে আম বাগান। বিশাল জায়গা জুড়ে নারকেল বাগান, লিচু বাগান ইত্যাদি। মন ভাল হয়ে গেলো।

এখান থেকে দুপুরে রওনা দিলাম অনেক কাঙ্ক্ষিত ময়মনসিংহ- ঢাকার হাইওয়ে ধরে। ইচ্ছে মতো টানলাম বিশাল এই রাস্তায়।

ঢাকায় পৌঁছে মাসুম ভাই কে ফোন দিলাম – বাইকের কিছু জিনিস কেনা দরকার। ওনার কথা মতো ইরমা মটরস (মিরপুর ১০) থেকে কিনলাম – এরপর ফগ লাইট কিনলাম ফেয়ার অটো থেকে। এখান থেকে আগে LS2 হেলমেট নিয়েছিলাম।

এরপর ওনার কথা মত অনেক দূরে বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার ফেলে গেলাম – ওখান থেক ৩ কিলো পার হয়ে খিলখেত – শাহাদাত ভাইয়ের গ্যারেজ। এখানে অনেক দূর দূর থেকে বাইকার রা এসে কাজ করান।

ক্লাস প্লেট  বদলাচ্ছিলাম। এর ভেতর মাসুম ভাই এসে পড়লাম। ফোন টা এক্টূ আগেই হারিয়েছিলাম।

অনেক দিন পর দেখা হল। এর আগে ২ বার দেখা হতে গিয়েও হয়নি। উনি খুলনা যাবেন – তাই কিছুক্ষন থেকে চলে গেলেন।

এই এলাকায় হুট করে দেখা হয়ে গেলো খন্দকার জান্নাত ভাইয়ের সাথে। ভরপুর খাওয়ালেন লেক সিটির সামনে এক রেস্তোরায়। নিমত্ন্রন করলেন ওনার বাংলোতে থাকার জন্য।

এরপর ফগ লাইট লাগালাম। তারপর ওয়াশ।

কাজ শেষ করে গেলাম আমার এক সময় এর থাকার জায়গা ফার্ম গেট। ওখানে ফ্রেন্ড সায়মন এর সাথে দেখা করলাম – তেজগাও কলেজের গলিতে। এখানে আমার অনেক সৃতি আছে। আসলেই নস্টালজিয়াতে আক্রান্ত হই। এরপর জিগাতলা এক ফ্রেন্ড ফয়সল এর বাসায় উঠলাম।

ফোন নেই – তাই সারপ্রাইজ হলো।

Day 9

সকালে উঠে রওনা দিলাম ফয়সল কে নিয়ে। ও সামনে এগিয়ে দিচ্ছে। যাবো মাওয়া ঘাট হয়ে খুলনা।

ওকে বেড়ি বাধ এ নামিয়ে দিয়ে – আমি রওনা দিলাম – এবং এক সময় মাওয়া ঘাট পৌঁছে গেলাম। দারুন সব পথ।

ফেরিতে উঠবো – এমন সময় দেখি বাইকের কাগজ বেগে নেই। সর্বনাশ। ফিরে আসলাম ৫ কিলো মত। নেই। পরে থানায় গেলাম জীডি করতে। করে না। বলে ওসি বললে করবে। কারন আমি স্থানীয় নই। গুল্লি মার। আমি তারপর চলে এসে উঠলাম গাজীপুর রিলেটিভ এর বাসায়।

Day 10

সকালে আমি একটান দিয়ে সোজা চট্টগ্রাম। এসেই জিডি করলাম। শান্তি।

এই ছিলো ট্যুর। এখন বাইকের কাগজ তুলেই ইনশাল্লাহ একটা ট্যুর দিবো।

  • আপডেট

কাগজ ওকে করে আরো ট্যুর দিয়েছি। এখানে পাবেনঃ

সাজেক ট্যুর

অডলীয়া টী এস্টেট ট্যুর

সবাই ভাল থাকবেন। হ্যাপি বাইকিং – হ্যাপি ট্রাভেলিং।

টাঙ্গুয়ার হাওর, শ্রীমঙ্গল, জাফ্লং, বিরিশিরি ট্যুর/ ডিসেম্বর ২০১৬ (১ম পর্ব)

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Join 259 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: