হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

রহস্যময় কুদুম গুহা ও কুমিরের প্রজনন খামার

 

 

যত যাচ্ছিলাম অন্ধকার আরো ঘনীভূত হচ্ছিলো। মুহুর্তে মুহুর্তে ইচ্ছে হচ্ছিলো একছুটে বের হয়ে পড়ি এই অন্ধকার গুহা ছেড়ে। পায়ের নিচে কিছু পড়লেই মনে হচ্চিলো এই বুঝি ছোবল খেলাম সাপের।

IMG_20150630_121535

অন্ধকারে লাইট মেরে কিছুতে আলো পড়লেই মনে হচ্ছিলো অজগরের মাথা। জত আগাচ্ছিলাম অন্ধকার বাড়ছিলো। গুহার পানিতে টর্চ মেরে দেখলাম অনেক মাছ। আর প্রচুর চামচিকা হোটোপুটি করছিলো।  এই করে করে শ্বাস চেপে সময়টা পার করে এক সময় ফিরতি পথ ধরলাম। গুহার বাইরে এসে হাপ ছেড়ে বাচলাম।

যাক ফিরতি পথ ধরলাম।

ফিরে এসে স্থানীয় এক পুকুরে নেমে পড়লাম। জামা কাপড় বদলে নিলাম।

DSC_1100

এলাকাটা ছবির মত সুন্দর। সব চাকমা বাড়ি। বাড়ির ভেতরে ছবি তুলতে গিয়ে জাকির ভাই কুকুর এর দউড়ানি খেলেন।

IMG_20150630_131505

রাস্তায় দেখলাম কিছু ছেলে মেয়ে ঝিরি থেকে মাছ ধরে নিয়ে এসেছে। মাছ দেখে আমার আক্কেল গুরুম। বেশ বড় বড় মাছ – এর ভেতর আবার বড় বড় চিংড়ি মাছ ও রয়েছে।

IMG_20150630_131817

দেখলাম চাকমা রা বাধ বানাচ্ছে মাছ ধরার জন্য। বন্যার কারনে প্রচুর মাছ চলে এসেছে এই দিকে।

DSC_1124

এই চাকমা পল্লির মাঝে দিয়ে একটা পিচ ঢালা পথ চলে গেছে – দারুন একটা পথ। ভবিষ্যতে বাইক নিয়ে এখানে আবার আসার ইচ্ছে আছে। পথের ২ পাশে গাঢ় সবুজ গাছের ঝোপ জঙ্গল।

 

DSC_1131

 

 

DSC_1129

 

IMG_20150630_124752

 

DSC_1119

 

চাকমারা সব অবাক হয়ে আমাদের দেখছিল। আসার সময় সি এন জি তে এলেও হেটে হেটে ফিরছিলাম। একসময় একটা রিকশা পেয়ে গেলাম। রিকশা চড়তে দারুন লাগলো।

ফিরে এসে একটা মসজিদে নামাজ পড়ে উঠে পড়লাম একটা সি লেগুনা তে। জাকির ভাই কে বললাম, চলেন আরো একটা জায়গায় যাই।

কুমিরের প্রজনন খামার

IMG_20150630_142204

এটা করে চলে গেলাম কুমির দেখার জন্য। মেইন রাস্তায় নেমে প্রায় ১ কিলো উচু নিচু পথে হাটতে হলো রোজা রেখে। ভেতরটা প্রাইভেট লি কেউ করেছে। প্রচুর বাগান। এই প্রথম আমি কমলা বাগান দেখলাম। আরো ছিলো পেপে, রবার, আম, কলা, ইত্তাদির বাগান।

 

2

Orange garden

IMG_20150630_143430

একসময় বায়ে টার্ন নিয়ে একটা নিচু পথে ধরে একটা জায়গায় পউছালাম – সমভত এর ভেতরেই কুমিরের প্রজনন করা হয়। কিন্তু বন্ধ। উপায় কি। পরে তার কাটার দেয়াল পার হলাম ২ জনে।

DSC_1158

 

IMG_20150630_144838

আরো কিছু দূর যাওয়ার পর দেখলাম পথ ব্লক করা বাশ দিয়ে। আমরা আবার ফাক গলে ঢুকে পড়লাম। যা থাকে কপালে। ফিরবো না এমনি এমনি। উচুতে উঠে একটা সাইন বোর্ড দেখলাম। যেখানে লিখা “কুমির দেখতে শান্ত মনে হলেও আসলে বেশ হিংস্র প্রানি”।

IMG_20150630_145156

এক সময় একটা দেয়াল ঘেরা জায়গা (উচ্চতা ৪ ফুট) উকি মেরে দেখতেই জাকির ভাইয়ের দিকে বিশাল এক কুমির তেড়ে এল। উনি ভড়কে গেলেন। এরপর তিনি একদিকে গেলেন আমি একদিকে।

একটু নিচে নেমে দেখলাম একটা জলাশয়। আরো কাছে জেতেই অবাক হয়ে দেখলাম পুরা জলাশয় এখানে সেখানে সব কুমির।

DSC_1168

পানিতে ডুব দিচ্ছে – কেউ পাহাড়ের গায়ে উঠে বিশ্রাম নিচ্ছে। আমার ভয় ভয় করতে লাগলো। ডানে বায়ে পিছনে তাকাতে লাগলাম। কে যানে কোন দিক থেকে কুমির মুখ হা করে তেড়ে আসে। যখন ভিডিও করা শরু করলাম – একটু পড়েই কি মনে হতেই দেখি বিশাল এক কুমির আমার দিকে খুব দ্রত গতিতে এগিয়ে আসছে। বাবারে বলে পিছন ফিরে টিলার উপর উঠে পড়লাম।

1

সেই কুমির এবার মুখ বন্ধ করে ঝিম মেরে পড়ে থাকলো। আমার বুক তখন হাপরের মত উঠা নামা করছে। আর না। উঠে এলাম। এদিকে জাকির ভাই অন্য দিকে প্রচুর কুমির দেখতে পেলো।

IMG_20150630_150232

এদিকে আমাদের দুর থেকে ডাকাডাকি করছিলো – আমরা ধরা পড়ে গেছি অনু প্রবেশ করে।

IMG_20150630_145705

কিনতু সেই ডাকে কান না দিয়ে ২ জন প্রায় দৌড়ে গিয়ে প্রতিটা দেয়ালের ঘেরে উকি মারলে লাগলাম। ২/৩ টা কুমির বিশাল হা করে বিদ্যুৎ গতিতে ছুটে এল। অনেক বড় বড় সাইজের কুমির দেখলাম। আর অনেক কাছ থেকে। জেহেতু আমাদের ডাকাডাকি করছে – জত দ্রত সম্ভব সবগুলো ঘেরের কুমিরের ছবি ভিডিও নেয়ার চেস্টা করলাম। জাকির ভাই মডেল মানুষ। কুমিরের পাশে দাড়িয়ে আবার ছবি তুল্লেন।

IMG_20150630_150125

ব্যাস। এই বার মোকাবেলা করা যাক। আমরা দেয়াল টপকে তাদের জেরার মুখে পড়লাম। একসময় এদের কাপ ঝাপ বুঝিয়ে কিছু টাকা দিয়ে ২ জন বের হয়ে পড়লাম। মন খুব তৃপ্ত। কি দেখবো মনে করছিলাম আর কি দেখলাম। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। এখানে প্রায় ৪০০ কুমির ছিলো। এগুলোর ক্রেতা সাউথ আফ্রিকা, জাপান, চিন সহ নানা দেশ। ওখান থেকে বায়ার রা এসে কিনে নিয়ে যায়। একদম ছোট ২/৩ ফুট এর একটা বাচ্চা কুমির ১ লাখ টাকা।

যাক এবার ফেরার পালা। আমরা রোজা রেখে আসলে বেশ কাহিল হয়ে পড়ছিলাম। তবে মন ১০০ ভাগ তৃপ্ত।

মেইন রাস্তায় ফিরে এসে একটা সি এন জি তে উঠে পড়লাম। ফিরে এলাম কক্স বাজার। হোটেলে এসে ২ জনে কাত হয়ে পড়লাম।

সন্ধায় ইফতার করে আবার হোটেলে। ঘণ্টা ২ বিশ্রাম নিয়ে ২ জন চলে গেলাম বিচ এ। তীর ধরে হাটলাম, ওখানে রিলাক্সিন চেয়ার বসে অনেক্ষন উপভোগ করলাম নিলাভ আলোটে সমুদ্রের ঢেউ এর আছড়ে পড়া।

শেষ অংশটি পড়তে আমার নতুন ট্রাভেল ব্লগ দেখতে পারেন। 

Visit: adventurehassan.com

 

 

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Join 262 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: