হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

জঙ্গলে ১ রাত – ক্যাম্প ফায়ার

IMG_9499 (Custom)

কয়েকদিন থেকেই ইচ্ছে করছিলো জঙ্গলে ক্যাম্প ফায়ার করে থাকার। প্ল্যান মত সকালে বের হবো, এমন সময় নামলো ঝুম বৃষ্টি। দুপর ২ টার পর বৃষ্টি শেষ হলে বের হয়ে পড়লাম আমরা।

পথে জঙ্গলে যেহেতু রাতে থাকার প্ল্যান, সেই ভাবে কেনা কাটা করে নিলাম। এই জঙ্গল টা মিরসরাই তে। পাহাড়ী ঝর্না আছে ভেতরে।

জঙ্গলে প্রবেশ করার সময় আর মাত্র আছে ২০/২৫ মিনিট, সন্ধা নামার। আলো থাকতেই তাবু টাংগিয়ে কোথাও হল্ট করার ইচ্ছে ছিলো। সম্ভব হলো না। তবুও আমরা চোখ মুখ বন্ধ করে আগাতে লাগলাম। জতটা পথ আলো থাকা অবস্থায় যাওয়া যায়।

IMG_9709 (Custom)

ট্রেকিং শুরু হলো। ঝিরি পথের পাশ দিয়ে অনেক টুকু গিয়ে এক পর্যায়ে পাহাড় বেয়ে ওঠা শুরু হলো। এদিকে অন্ধকার নেমে এসেছে। ঘুট ঘটে অন্ধকারে টর্চ জ্বালিয়ে আমরা পথ খুজে নিয়ে এগোতে লাগলাম লতা পাতা, জংগলের ভেতর দিয়ে। পিঠে আছে ১ মনি ব্যাগ।

মাঝে মাঝে কোথায় ৫ মিনিট বিরতি দিয়ে বসে হাপাতে লাগলাম। পানি তো খেতে পারছি না শরির ভারি হয়ে যাবে বলে।

আকাশে অনেক বড় চাঁদ। আগামি কাল পুর্নিমা। ২/৩ দিন বার আমরা পা স্লিপ করে পড়েও বেঁচে গেলাম গাছের ডাল ধরে। আর কিছু জায়গা উঠতে হলো নিজেরা পথ বানিয়ে নিয়ে। রাতের অন্ধকারে এমন ট্রেকিং কিছুটা ভয়ংকর হলেও থ্রিলিং। রাতের জংগলের ভেতর ভৌতিক পরিবেশ, থম থমে আর রহস্যময় জংগলের ভেতর দিয়ে আমরা বন্য প্রানির মত আগাতে লাগলাম।

IMG_9483 (Custom)

 

 

রাস্তা হারিয়ে আমরা যদিও চিন্তার ভেতর ছিলাম, তবে একি সাথে দুর্দান্ত একটা অনুভতি এমন পরিবেশে। এর উপর পথের নেই কোন আগা মাথা। একটা খাড়া  জায়গায় উঠতে হলো স্রেফ বড় গাছের লতা ধরে বেয়ে বেয়ে। ফস্কে গেলে গড়াতে গড়াতে কই চলে জাবো ঠিক নাই। আমরা যতই উপরে উঠছি, দেখি পাহাড় চুড়া আরো উপরে। ব্যাপার কি। শেষ কেনো হয় না। আমাদের প্ল্যান চুড়ায় উঠে ডান ডিকে এক ঘন্টা ট্রেক করে ঝর্নার দিকে চলে যাওয়া। কিন্তু পথ কই?

আবার কিছু টা ডানে চেপে যাওয়ার সময় এক সময় ঝর্নার শব্দ পেলাম আবারো। জেটা নিচ থেকে আসছে। আমরা রুট বদলে ঠিক করলাম এবার ডাউন স্ট্রিম এ এই পানির সাউন্ড ট্রেক করে ঝরনার কাছে পৌঁছানো। এবার দেখি এখানে যাওয়ার ও পথ নেই। এমন কি জেই পথে আসছি, সেই পথ ও খুজে পাচ্ছি না।

একটা জায়গা কিছুক্ষণ ঝিম ধরে বসে থাকলাম। আল্লাহ জানেন ভাল আজ কি আছে কপালে। আবার চলা।

ভয়াবহ রিস্ক নিয়ে একটা জায়গায় নামতে গিয়ে আবার পা হড়কে পড়ে অনেক দুর নিচে নেমে গিয়ে আবারো আল্লাহর রহমতে ডাল ধরে রক্ষা।

এই করে লতা পাতা, ডাল পালা ধরে নামতে নামতে কিভাবে কিভাবে ঠিক ই ঝর্নার ধারে পৌঁছে গেলাম। মনে হল যেন এভারেস্ট পৌঁছে গেছি। এত শান্তি পেলাম। হালকা চাদের আলো ছিলো।

IMG_9442 (Custom)

শরীরে আর আমাদের এক ফোটা শক্তি ছিলো না। এতক্ষণ পানি খাইনি ইচ্ছে করে। এবার ঝাপিয়ে পড়লাম শুকনা খাবার আর পানির ওপর। কিছুটা ধাতস্ত হয়ে তাবু টাংগিয়ে ফেললাম এক পাশে। জায়গাটা পুরাটা পাহাড়ি জঙ্গলে ঘেরা। আধি ভৌতিক আলোর নিচে ঝরনার পানির শব্দের সাথে আছে ঝিঁঝিঁ পোকা আর রাতের নানা রকম শব্দ,নিশাচর দের ডাক। অদ্ভুদ এক রহস্য ময় পরিবেশ।

DSC_0588

আর ভেতরে ঘটলো এক ঘটনা। কে যেন জংগল থেকে অদ্ভুদ সরে ডাকছে আমাদের……ওরে বাবারে। ভুতের কবলে পড়লাম নাকি। পরে টর্চ মেরে দেখলাম কয়েকটা ছেলে/মেয়ে এরাও আসছে আমদের মত ক্যাম্পিং করার জন্য। উপর থেকে নেমে আসছে, কারন ওরা ভাবছে ডাকাতের কবলে পড়ছে। মেয়েদের কে ওরা জংগলের ভেতর লুকিইয়ে ফেলে পরে সাহস করে অফেন্স করতে আছে। পরা মেয়েরা ও নেমে এলো। এবং ওরা চলে গেলো। থাকবে না। মেয়েরা থাকাতে এমন নিঝুম জায়গায় ভয় পাচ্ছিলো।

IMG_9682 (Custom)

আরেক টু পর আমরা আরো সমতল একটা জায়গার জন্য আরো উপরে উঠে গেলাম ঝর্নার পাশ দিয়ে প্রায় খাড়া একটা জায়গা ট্রেকিং করে। হ্যাঁ। এই জায়গাটা দারুন। সমতল। ব্যাস। এখানেই থাকবো আমরা। তাঁবু টাংগিয়ে কাঠ কাটা শুরু করলাম। তারপর আগুন ধরিয়ে চললও বারবিকিউ। নিজেদের মনে হচ্ছিলো জংগলের ই একজন। খুব খুদা নিয়ে মুরগির রোস্টের ওপর ঝাপিয়ে পড়লাম। এমন অসাধারণ স্বাদ হয়েছিলো বলার মত না।

DSC_0578

এরপর চা। এর ভেতর ওই ট্রেকার ছেলে/ মেয়েরা আবার ফিরে এলো কি মনে করে। তারাও কেমপ ফায়ার করলো। ওদের এক আপু রান্না করলো নুডলস। শেয়ার করে খেলাম।

অনেক রাত পর্যন্ত রাতের এই পরিবেশ আমরা উপভোগ করলাম। একসময় তাবুর ভেতর ঝর্নার পানির শব্দ শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে গেলাম।

DSC_0590

সকালে উঠে চারদিকের ভেজা ভীষণ রকম প্রানবন্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ দেখে মন খুব ভালো হয়ে গেলো। মনে হলো হেভেনে আছি। নামাজ পড়ে নিলাম।

দুরের ভিউ আর চার পাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনন্য করে রেখেছে জায়গাটাকে।

DSC_0591

এরপর নুডলস আর চা খেয়ে আমরা এদের বিদায় দিয়ে আবার উপরে ট্রেকিং করা শুরু করলাম। এক পর্যায়ে দেখি আর কোন পথ নেই। পথ আছে, কিন্তু সব ঝপ ঝার লতা পাতায় ঢাকা। অনেক যুদ্ধ করে আগাতে হবে। তাই আবার ফিরে এসে অন্য এক টা জায়গায় ক্যাম্পিং করলা। এখানে এসে ঝাপিয়ে পড়লাম ঝর্নার পানিতে। সারাদিন এখানেই কাটলো জংগলের ভেতর।

IMG_9697 (Custom)

 

কত রকম পাখি যে দেখলাম।

শুনলাম এক শিকারি কিছ দিন আগে ৪ টা বন্য ছাগল (সাইজ গরুর মত বড়)  শিকার করে নিয়ে গেছে এখান থেকে। আর হরিণ ও নাকি দেখা যায় এখানে। আছে শিয়াল, বানর, সাপ, শুকর, বন মোরগ ও বাঘদাশ।

এক সময় দেখি আকাশের এক পাশ কাল হয়ে গেলো খুব দ্রুত। আমাদের আরো থাকার প্ল্যান ছিলো। কিন্তু ব্রিস্টি বেশি হলে অনেক সময় এসব জায়গায় পাহাড়ি ঢল নামে। স্রোত সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

তাই দেরি না করে রওনা দিয়ে দিলাম।

যা আশা করেছিলাম , তারচেয়ে অনেক দুর্দান্ত একটা এডভেঞ্চার হলো।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Join 262 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: