হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

টৈটং টুর

11

প্রথমেই বলে রাখি – এবারের টুর এও বন্য হাতি দেখতে পাইনি।

বাইক নিয়ে আমি আর আমার এক ফ্রেন্ড রওনা হয়ে পড়ি সকালে।

নির্দিস্ট কোন গন্তব্য ছিলো না প্রথমে। পরে নতুন ব্রিজ পার হয়ে টং এর দোকানে চা খেতে খেতে ঠিক করা হলো।

১। বন্য হাতি দেখা

২। টৈটং যাওয়া। ওখানে ২/৩ হাজার পর্তুগিজ এর বসবাস। এরা নিজেদের ভেতরেই বিয়ে করে। ফর্সা চেহারা। এদের দর্শন করা।

ফেরার পথে বন্য হাতি দেখা।

প্রথমেই বাশখালি এর এর সেই কার্পেট মসৃণ রোড। যেন রেসিং ট্রেক। আমার আগের টুর টা দেখতে পারেন। সেখানে কিছু ছবি আছে।

এর পরেই পড়লো কোরিয়ান এই শহর (KEPZ)। পারমিশন লাগে ঢুকতে। আমরা ঢুকে গেলাম। বলা বাহুল্য এর আগে এখানে যাওয়া হয়নি কখনো।

ঢুকেই মসৃণ পথে এগোতেই মুগ্ধ হয়ে গেলাম ভীষণ।

7

এ যেন কোন রাজার শহর। সব টিপ টপ। এক টা পাতা ও রাস্তায় পড়ে নেই। আছে লেক, গলফ এর মাঠ, সারি সারি নারকেল গাছ। লেক এ অতিথি পাখি দেখলাম।

1

কয়েকটা লেক আছে। জায়গাটা আসলে যে কাউকে মুগ্ধ করে ফেলবে। দারুন।

5

2

অবশেষে কোরিয়ান শহর থেকে অন্য দিক দিয়ে বের হলাম। পথ টা পার্কির চর এর পথের সাথে মিশে ছে।

যাই হোক,

টৈটং যেতে হবে। যেই পথে যাবো, সেটা চকরিয়া তে মিশেছে। শেষ মাথায় পাহাড়ি জঙ্গল। যার কারনে এই রোড দিয়ে কক্স বাজার যাওয়া যায় না। তবে জানলাম চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে।

দুপুরের জুম্মার নামাজ পড়লাম গ্রাম্য একটি মসজিদে। পরে খাবার খেয়ে নিয়ে আবার চলা শুরু। অফ রোড আছে মাঝে মাঝে। এক সময় টৈটং পৌছে গেলাম। জাফ্লং গিয়ে যেমন লেগেছিলো, তেমনি লাগছিলো। পথ টা দারুন। ২ পাশে সারি সারি পাইন গাছ।

10

পর্তুগিজ দের দেখা পাইনি। তবে আদিবাসি দের দেখা পেলাম।

ওখানে কিছু সময় থেকে টার্ন নিয়ে জঙ্গলের পথে ঢুকে গেলাম। চারপাশে পাহাড় ঘেরা একটা উপত্যকায় যাবো। গত বার গিয়েছিলাম।

আরে সর্বনাশ। জঙ্গলের মাঝখানে বাইক থামাতেই একটা বন্য গরু শিং উচিয়ে কোত্থেকে তেড়ে এলো। বাপরে। আমি ওই জঙ্গলের ভেতর ছুটলাম বাইক নিয়ে। প্রায় ৩০ গজ যাওয়ার পর সে আমায় রেহাই দিলো। যাক বাচলাম। আবার যেই স্টার্ট নিলাম, ব্যাটা আবার এটাক করলো। আবার দিলাম টান। উচু নিচু, গাছ পালার জঙ্গলের ভেতর দিয়ে ছুটতে লাগলাম। বাইক এর ঠিক ২ হাত পেছনে বন্য গরু আমায় তাড়া করতে লাগলো। যার শিং এর সাইজ অন্তত এক হাত। একসময় সামনে উচু পাহাড়। মমিন, এখন কি উপায়!!!?  আমি বাইক ফেলে এক দিকে লাফ দিয়ে পড়লাম। বাইক কাত, আমিও কাত। আমি পড়ে তো আতকে উঠলাম। এই বার বেঘোরে না যান টা গেলো। মাথা উচু করলাম। দেখি  ব্যাটা চোখ গরম করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কি মনে করে দেখি ঢু না দিয়ে ছেড়ে দিলো। কি এক বাচা বাচলাম। আল্লাহ বাচাইছেন। গত সপ্তাহে নাকি এক জন আহত হয়েছে গরুর আক্রমনে।

9

যাক। ওখানে ওই উপত্যকায় হল্ট করলাম। এক পাশেই পাহাড়ের ঢালে প্রচুর লিচু গাছ। হুম। গরম কালে আসতে হবে। এখানে নানা রকম ফলের অভাব নেই। তাছাড়া অসম্ভব সুন্দর জায়গাটা। ছবির মত।

বিস্তারিত বর্ননা আমার অন্য পোস্ট এ আছে। পোস্ট টা এখানে পাবেন। ঘন্টা খানেক ছিলাম। সময় ফুরিয়া আসছিলো। শনলাম গতকাল দুপুরে হাতি দেখেছে স্থানীয় একজন। আরো শুনলাম গতবার যে আমি এসেছিলাম, সেদিন চলে আসার পর সন্ধ্যায় আমার গাইড এর ২ আত্তিয় হাতীর হামলায় আহত হয়েছে। হাতি বাসায় ঢুকে পড়েছিলো। এক জনের পা পুরাই গুড়িয়ে গেছে।

হাতি মুলত বেশী আসে রাতে। তাই প্ল্যান করা আছে, একদিন রাত কাটাবো পাহাড়ে। যা থাকে কপালে।

পাহাড়ি উপত্যকা থেকে অন্য পথে (যে পথে লোকালয়) ফেরার পথে দেখলাম নানা রকম খেত। করলা্‌, শসা, মরিচ ইত্যাদি। তবে এমন সব খেত যা হাতি খায় না। ধানের চাষ ও এরা করে না হাতি নষ্ট করে বলে। পাইন গাছ এর বাগান ও দেখলাম। এর থেকে নাকি ফার্মের তেল!! হয়।

13

DSC05943 copy

তো সব মিলিয়ে বেশ ভালই কাটলো। যদিও ভালই ভয় পেয়েছিলাম।😀

সামনের বার আবার বন্য হাতী দেখার জন্য যাবো। থাকার ইচ্ছে আছে। হাতীর সাথে মোলাকাত হলে গান গাইবার ইচ্ছে আছে, …চল চল চল মেরে হাতি, ও মেরে সাথি…

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Join 262 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: