হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

চন্দ্রঘোনা – নারানগিরি

প্রথমে ভেবেছিলাম কাপ্তাই গিয়ে এক কাপ চা খেয়ে ফিরে আসবো। কিন্তু …

রওনা দিলাম কাপ্তাই এর উদ্দেশ্য। সকাল সকাল।

DSC05425

কাপ্তাই যাওয়ার পথে শুরুতেই এই পথটা দারুন লাগে। দিগন্ত জোড়া ধানখেত – আর দুরে হাতছানি দিয়ে ডাকে পাহাড় গুলো।

DSC05426

ম ম করছে পাকা ধানের গন্ধ।

প্রথমে কাপ্তাই পৌঁছাই।

জুম রেস্তোরার আগে ফ্লোটিং পেরাডাইজ নামে একটি রেস্টুরেন্ট আছে। যেখান থেকে কাপ্তাই লেকের অনেক দারুন একটা ওয়াইড ভিউ পাওয়া যায়। দাড়ান। আগের একটি ফাইল ছবি দেই। ছবিটা বগা লেক থেকে ফেরার পথে তোলা।

dsc_2974

ওখানে গিয়ে চা খেতে খেতে  ম্যানেজার (আদিবাসি) এর সাথে গল্প জুড়ে দিলাম। তিনি ওখানে বসেই মডার্ন একটা হুক্কা টান ছিলেন।

কথায় কথায় নদীর ওপারের একটা ঝর্নার কথা বললেন। আমার ২ কান ও মাথার চুল খাড়া হয়ে গেলো। ঝর্না।!!!!

পরে বিস্তারিত জেনে নিলাম – কিভাবে যেতে হবে। যাওয়ার আগে ওনার কাছ থেকে একটা ভ্রমণ বিষয়ক বই কিনলাম ১৩০ টাকা দিয়ে। “রূপের রানি”। বিশেষ করে রাঙ্গামাটি জেলা নিয়ে ভ্রমন বিষয়ক বই।

DSC05469

প্রথমে চলে এলাম চন্দ্রঘোনা তে। এখানে  মিশনারি হাস্পাতাল খুজে বের  বাইক রাখলাম।

DSC05430

ওখানেই ঘাট আছে। ঘাটে গিয়ে কথা বের করার চেস্টা করলাম।

DSC05453

একেক জনের একেক কথা। তবে জানা গেলো ঃ

১। ঝর্না আছে – অনেক দুর্গম পথ

২। এখন যাওয়াটা অনেক রিস্কি। পাহাড়ের ওপর শান্তি বাহিনী আছে।

আমি জানি পার্বত্য এলাকা গুলোতে রিস্ক থাকে। তাই যাওয়ার সিস্টেম অনুযায়ী যেতে হয়। এদের কথায় কান না দিয়ে নদী পার হয়ে গেলাম ১০ টাকা দিয়ে ৫ মিনিটেই।

DSC05458

নদীর ওপারে এবার গ্রামের মেম্বার বা হেডমেন এর সাথে যোগাযোগ করার ট্রাই করে পেলাম না। হতাশ হলাম। কারন এদের সেটিং দিলে এরা গাইড ঠিক করার সহ বাকি সেটিং দিয়ে রাখে – তখন আর দুর্গম জায়গায় এদের পরিচিত লোক নিয়ে গেলে প্রবলেম হয় না।

খবর নিয়ে জানলাম একটা ছোট ঝর্না আছে – সেখানে যাওয়া যেতে পারে। কানা মামা ভাল।

স্থানীয় লোক জন আলাপ করে এক টা গাইড ঠিক করে দিল। রওনা দিলাম।

DSC05433

পৌঁছে দেখি পানি একদম কম। বর্ষা তে ফুলে ফেফে যায়।

DSC05442

DSC05437

ঝিরি পথ দিয়ে অনেক টুকু গিয়ে খাড়া পাহাড় বেয়ে ট্রেকিং করলাম। রিস্ক ছিল ভালই। ভাব ছিলাম ফেরার পথে নামবো কিভাবে। তবে আল্লাহর রহমতে কিছু হয় নি। কি খাড়া রে বাবা।

DSC05439

খবর নিয়ে জানলাম কিভাবে সে ঝর্না গুলো তে যেতে হবে। হাপছড়ি ও জগন্নাথ ঝর্না। ২ ঘন্টার ট্রেকিং। আদিবাসি দের পাড়া হয়ে যেতে হবে। কৃষি ফার্ম আছে। ওখান থেকে যেতে হবে।

যাক ফিরে এলাম। এসে ঘাট থেকে আদিবাসি দের কাছ থেকে কিছু কিনলাম। গান আছে “ঘাটে লাগাইয়া ডিঙ্গা পান খাইয়া যাওরে মাঝি আল্লার দোহাই…”

আমি মাঝি নই, পান ও খাই নি। তবে ঘাটের ডিঙ্গা তে ঠিক ই চড়ে বসছি।

DSC05461

তাদের থেকে রেসিপি নিলাম। খেয়ে আপ ডেট দিবো!!!!

DSC05464

আমার ধারনা – অনেক মজা হবে খাবার টা ঠিক মতো রাধতে পারলে।

এই তো। এখান থেকে চলে গেলাম কাপ্তাই আবার।

ওহ কি দারুন রোড গুলো। ইচ্ছামতো বাইকিং করলাম কার্পেট এর মতো রোড গুলো দিয়ে। আর ২ পাশেই তো ঘন সবুজ। হেভেন।

কাপ্তাই নেভি স্পট এর আগে নৌ বাহিনির করা একটা জায়গায় হল্ট করলাম। ভিউ দেখে মাথা নস্ট হয়ে গেলো। এত সুন্দর কেনো বাবা।

DSC05467

এই জায়গাটা তে নৌ বাহিনী বসার বেবস্থা করে রেখেছে। আমার ইচ্ছে, আপনাদের ভাবি কে নিয়ে সামনে যাবো এখানে। দৃষ্টি জুড়িয়ে যায়।

বাংলাদেশ – বহুত সুন্দর হে।

আফসোস একটা ছবি তুলতেই ক্যামেরার ব্যাটারি ডাউন।

পরে সন্ধ্যা নাগাদ আবার বাইকে উঠে টান দিলাম ফেরার জন্য।

এবং সুস্থ ভাবে আল হামদুলিল্লাহ ফিরে এলাম।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Join 262 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: