হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

দেবতার পুকুর, খাগড়াছড়ি

DSC04349

মোটরবাইক নিয়ে ১৩ তারিখ, ব্রহস্পতি বার ৪ টা বাজে রওনা দেই বান্দরবনের উদ্দেশ্য। উত্তেজিত। কারন গত সপ্তাহে বের হওয়া হয়নি। বান্দর বন পৌঁছাই, তখন সন্ধ্যা নেমেছে। আরো ছিলো পুর্নিমা। মাঝে মাঝে বাতি নিভিয়ে চালিয়েছি। দারুন। এই অভিজ্ঞাতা আগে ছিলো না। প্রথমে গেলাম রেস্টুরেন্ট মেঘদূত। বেশ ভালো লাগে এখানের পরিবেশ। মৃদু আলো তে গান বাজতে থাকে।

DSC04234

হিল ভিউ তে রুম পেলাম না। মানে ভেলেন্টাইন উপলক্ষে প্রচুর টুরিস্ট। রাতে খেলাম তাজিং ডং এ।

DSC04236

পরদিন ভোর সাড়ে ছটায় কাপ্তাই-যাবার রোড সে অসাধারন কার্পেট রোড দিয়ে টান দিলাম।

DSC04238

আমাদের এখানে যদিও শীত নেই, পার্বত্য এলাকা গুলোতে বেশ ঠান্ডা এখনো। ফেরি পার হয়ে কাপ্তাই পৌছাই। এর পর বড়ইছড়ি সেই দারুন রোড পাহাড়ি আকাবাকা রোড টি হয়ে পৌছাই রাঙ্গামাটি। ওখান থেকে মহলছড়ী রোড ধরে পৌঁছে যাই খাগড়াছড়ি। সারাটা পথ ভালো লেগেছে। কারন এখানের সব রোড গুলো পাহাড়ের আঁকা বাকা পথে এগিয়ে গেছে। ২ ধারেই প্রচুর গাছ-পালা, ঝোপ ঝাড়।

DSC04379

খাগড়াছড়ী যখন ১০ কিলো বাকি – তখন দেখতে পাই দেবতার পুকুর এর সাইনবোর্ড।

DSC04357 DSC04358 DSC04339

রওনা দিলাম। একটা যায়গায় দেখি ব্রিজ এর পরে আর পথ নেই। পরে একটি ত্রিপুরা আদিবাসি গ্রামে একটি বাড়িতে বাইক রাখলাম। গাইড ঠিক করলাম ২ টা ছোট ছেলেকে। যারা নিজ থেকে জুটে গিয়েছিলো। ব্রিজ এর নিচে ঝিরিপথে দেখলাম শুকর এর বার বিকিউ করার প্রস্তুতি চলছে।

DSC04244

DSC04245

এদের সাথে কিছুক্ষণ গল্প করলাম। শুকর খাইনা, তাই আমন্ত্রন নিতে পারি নি। বলে রাখা ভালো, আদি বাসি দের ভেতর এরাই সবচে সহজ, সরল হয়।

এবার ট্র্যাকিং শুরু। এক ঘণ্টার ট্র্যাকিং – টা অভ্যাস না থাকলে কস্ট হবে। পাহাড় বেয়ে উঠতে হবে।

vlcsnap-2014-02-15-18h21m10s164

মাঝখানে বিরতি নিলাম। দুরে দারুন ভিউ গুলো।

DSC04249

DSC04251

দেবতার পুকুর পৌঁছে ঝাপিয়ে পড়লাম পানিতে। পুকুর দেখে বগা- লেক এর কথা মনে পড়ে গেলো। কিছুটা মিল আছে।

DSC04257 DSC04278

DSC04297

দুরে একটি বিশাল টিলা দেখে জানতে পারলাম ওই এলাকায় ভালুক ও হরিন আছে। বেশ ঘন জঙ্গল সেখানে। কিছুদিন আগেও বিশাল আকারের একটি ভালুক এর হামলায় একজন মারা যায়। বাকিরা পালিয়ে গাছের উপর উঠে বেচে যায়। বাপরে। ফিরলাম অন্য পথ দিয়ে। কারন ঝর্নাতে যাবো। এই ঝ্ররনার নাম লক্ষ্মী – দুর্গা ঝ্ররনা।

DSC04300

DSC04307

DSC04312

এখন শীত বলে পানি খুব কম। পাশেই ঝিরি পথ। এখানে বর্ষায় প্রচুর পানি থাকে।

গ্রামে ফিরে আমার গাইড তার বাড়িতে নিয়ে তাদের গাছ থেকে ডাব পেড়ে খাওয়ালো। বেশ মিস্টি পানি।

vlcsnap-2014-02-15-18h19m53s82

DSC04327

বাইক নিয়ে পউছালাম খাগড়াছড়ি। পৌঁছে প্রথমে গেলাম সিস্টেম হোটেল এ। (শাপলা চত্তর থেকে পাইখান পাড়া রোড এ) এখানের খাবারের প্রচুর সুনাম শুনেছি। কনফার্ম হলাম – হালাল। বেশ দারুন পরিবেশ।

DSC04341

DSC04344

আইটেম কম। দুপুরে দেরিতে পৌঁছেছি।

আর খাওয়ার স্বাদ এখনো লেগে আছে। দারুন। খাওয়া সেরে টান দিয়ে চলে গেলাম দিঘিনালা। এর পথ টা আমার দারুন লাগে। ২০ কিলো পথ। আসার পথে কমলা রঙের রক্তিম সুর্জ্য টাকে ধরার জন্য লোভ লাগছিলো একটা DSLR এর জন্য।   খাগড়াছড়ি তে ফিরে চলে গেলাম নিউজিল্যান্ড। আরে না না। এটা একটা জায়গা।😀 এখানের বিশেশত্ত জানার জন্য এখানে আসতে হবে। তবে মনে করে বিকেল টাইম এ যাবেন😉

DSC04352

সন্ধ্যা নামলো।  এবার হোটেল ঠিক করার পালা। সারাদিনের ধকল শেষে বেশ ক্লান্ত। গাইরাং হোটেল টি বেশ ভালো। কিন্তু রুম বুকড। ওরাই ঠিক করে দিলো হোটেল লবিয়ত এ। (এখানে ৪ তলায় খরচ একটু বেশী দিয়ে বেশ ভালো রুম পাওয়া যায়। মাত্র ৪০০ টাকা)  রাতে আবার বের হলে সিস্টেম হোটেল এ খেয়ে কিছু কেনাকাটা করলাম বৌ এর জন্য।🙂  নাহলে শাস্তি দিবে  ;)

পরদিন ৯ টায় রওনা দিলাম। উদ্দেশ্য পানছড়ি তে অবস্থিত শান্তপুর অরন্য কুটির। প্রথম ১০ কিলো পথ ভালো। পরে কিছুটা অফরোড। একটি যাত্রী ছাওনির পাশ দিয়ে বায়ে চলে যেতে হবে – পানছড়ি থেকে কিছু টা আগে। পথে পড়বে প্রচুর ইক্ষু খেত।

DSC04376

এখানে গেইট এ বাইক রেখে ঢুকলাম।প্রথমেই পেলাম ৫০ ফিট উঁচু বুদ্ধের বিশাল এক মূর্তি।

DSC04367

ছবি তুলে ঘোরা শুরু করলাম। এত নিরিবিলি, এত শান্ত চারপাশ, খুব ভালো লেগে গেলো। পাখির ডাক, ঝরা – পাতার শব্দ, আর বাতাস – এ ছাড়া কোন শব্দ নেই।

DSC04369

DSC04368

এখানে গাছের নিচে বা কুটিরে ধ্যান বা ভাবনা করেন ওনারা। বিশাল এলাকা। ১৫০০ একর। এখানে নানা জীব জন্তু পাওয়া যায়। যেমন হরিন, বানর, সজারু ইত্যাদি। কিছু বুদ্ধের অনুরারি, ওখানে ধ্যান করেন, তাদের সাথে অনেক্ষন কথা বললাম। জানতে পারলাম অনেক কিছু।

vlcsnap-2014-02-15-18h20m12s55

ভালো লাগা নিয়ে ফিরলাম। ফিরেই ঠিক করলাম সাজেক যাওয়ার পথে বা দিকে আরেকটি রোড বর্ডার এ গিয়ে শেষ হয়। ওখানে যাবো। দিঘিনালা পার হয়ে আরো কিছু দুর গিয়ে লাঞ্চ করতে করতে দেখি ২ টা। সময় না থাকায় তাই সিদ্ধান্ত নিলাম ব্যাক করা যাক।

ফিরলাম খাগড়াছড়ির ছবির মত সব রোড দিয়ে। শুধু টানতে লাগলাম বাইক।

এবারের টুর টাতে ইচ্ছেমত বাইক চালিয়েছি সাধ মিটিয়ে এই সব পার্বত্য এলাকা গুলো তে। ৭১০ কিলো মোট পথ ভ্রমণ করেছি। এত চালানোর পর ও বোর লাগেনি। পথ গুলোই এমন। ফিরেছি বিকেলে এক রাশ ভালো লাগা নিয়ে।

আর হ্যাঁ। ভেলেন্টাইন ডে তে আদিবাসি রা বেশ সেজে গুজে ঘুরছিলো। কিন্তু এদের ছবি তুলতে ভয় লাগে। (বিশেষ করে সুন্দরী দের) এরা বেশ সেনসিটিভ।😉

Next Tour: নিঝুম দ্বীপ। ততক্ষন পর্যন্ত, সাথেই থাকুন – ভালো থাকুন।

4 comments on “দেবতার পুকুর, খাগড়াছড়ি

  1. Mostafa Shiblee
    March 8, 2014

    আপনি খাগড়াছড়ি থেকে মহালছড়ি গিয়েছেন বললেন। রোড টা কেমন ছিল? আমি শুনেছি, রাস্তা খারাপ, লোক চলাচল নেই। জানাবেন প্লিজ। লেখাগুলোর জন্য অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকুন।

    Like

    • Hassan Tanvir
      March 8, 2014

      না। আমি বলেছি রাঙ্গামাটি থেকে মহলছড়ী রোড ধরে গিয়েছি খাগড়াছড়ি। সোজা রোড। কিছু উপজাতি বসতি আছে। সন্ধ্যার পর + একা না গেলেই ভাল। (তবে আমি একাই গিয়েছি)। রাস্তা বেশ ভালো। ৮০ স্পীড এ টেনেছি অনেক পথ।

      Like

  2. Syedur Rahman Rubel
    June 17, 2015

    VALO LAGLO

    Like

    • Hassan Tanvir
      June 18, 2015

      Thanks

      Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Join 262 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: