হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

রাঙ্গামাটি (Rangamati)

কবি গান লিখে গেছেন ঃ গ্রাম ছাড়া ওই রাঙ্গামাটির পথ…আমার মন ভোলায় রে…

আসলেই রাঙ্গামাটি তে গেলে মন যে ভুলবে (আর কোথায় কোথায় যাবে!!!!!!!) বলা মুশকিল। এবার গন্তব্য – এই মন ভোলানোর দেশে।

কয়েক দিন থেকেই অপেক্ষা করছিলাম কখন শুক্রবার আসবে – আর বেরিয়ে পড়বো। আগেরদিন রাতে ঠিক মতো ঘুম হয়নি উত্তেজনায় – প্রতিবারেই এমন হয়।

সকাল হতেই প্রিয় মটরবাইক নিয়ে বের হয়ে পড়লাম। ছুট – ছুট – ছুট।

আবার হারিয়ে যাওয়া গাড় সবুজ রঙের পাহাড়ের ভেতরে।

DSC_0126.jpg

চলে গেলাম রাঙ্গামাটি। পৌঁছুতে পৌঁছুতে ৯ টা বেজে গেলো। দেরি না করে প্রথমে চলে গেলাম ঝুলন্ত ব্রিজ।

এই ঝুলন্ত ব্রিজ গুলো আরো কয়েক জায়গায় দেখেছি। সুন্দর। ব্রিজ এর ২ পারেই সবুজের মিতালি পাহাড়ের সাথে।  নদীর মাঝে দারুন লাগে দেখতে। সবাই ছবি তুলতে বেস্ত।

DSC_0127

এই ফাকে বলে রাখি, রাঙ্গামাটি বাংলাদেশের সবচে বড় জেলা। আয়তনঃ ৬১১৬ বর্গ্মাইল। 

এই সুন্দর জেলাটি দক্ষিন – পুর্ব দিকে অবস্থিত।

ব্রিজ পার হয়ে ওই পারে চলে গেলাম। রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে মুগ্ধতা বাড়ছিলো। পথ দিয়ে কিছুটা উপরে একটা চত্তরের মত জায়গা। এখানে থেকে ভিউ টা আরো অনেক সুন্দর।

DSC01022

DSC01009

 

 

DSC01018

 

aaa

ব্রিজ আর মানুষ গুলোকে অনেক ছোট মনে হয়। জাস্ট কোথাও বসে পড়ুন ২ দন্ড এলো মেলো হাওয়াতে – আর এই নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করুন। দুরে নদীর বুকে অনেক নৌকা। আর চারপাশে নিবিড়তা – অনন্য সৌন্দর্য।  নিশ্চিত আপনার মন কোথাও হারিয়ে যাবে।

কিছুক্ষণ থেকে আবার চলা শুরু। এবার দেখতে পেলাম আদি বাসিরা নানা রকম পসরার মেলা সাজিয়ে বসেছে। কি দারুন সব জিনিস। অনেক কালার ফুল। এদের মনে সম্ভবত অনেক রঙ। পরিবেশ!!

DSC01016

এর পর এক যায় চায়ের দোকান পেলাম। দই খেলাম। আবার কিছদুর গিয়ে একটি বড় হস্ত শিল্পের দোকান আর খাওয়ার জায়গা। এখান থেকে আমরা এক তারা ইত্যাদি কিছু জিনিস কিনলাম।

DSC01019

চমৎকার লাগলো। ফিরে এলাম।

ওখান থেকে রিজার্ভ নিলাম বোট ১০৫০ টাকা দিয়ে। (সরকারি রেট)। তবে আপনি যদি চান রিজার্ভ  বাজার থেকে আরো কমে নিতে পারবেন।

রওনা দিলাম। বোট জার্নি সব সময় ই আনন্দের – যখন ২ পাশে থাকে অনেক পাহাড়, গাছ গাছালি। প্রথমে গেলাম জুম রেস্টুরেন্ট। এটা বরকল উপজেলায়।

DSC01623 copy

ওখানে ব্রেক নিলাম। আদি বাসি দের একটা রেস্তোরা আছে। জুম ঘর রেস্তোরা।  খাওয়া দাওয়া করলাম। এখানে ছোট ছোট অনেক কুটির ঘর আছে। (জুম ঘর)। আশে পাশে ফুলের বাগানে ভরা। দারুন। আর একদম ওপর থেকে ভিউ টা অসাধারন। জাস্ট কস্ট করে একটু উপরে উঠতে হবে পাহাড় বেয়ে।

পথে আরো একটি জায়গা পড়বে।  এগুলোকে দ্বিপের মত মনে হয়।

pedating-ting

some-of-the-food-still

যেখানে জাবেন, নাম ঃ পেডা টিং টিং । মানে হল পেট টান টান। এখানে উপজাতিদের বাঁশ/ কলাপাতায় পরিবেশন কৃত খাবার এত মজা করে খাবেন – যে পেট টান টান হয়ে যাবে – তাই সম্ভবত এই নাম।😀

আবার বোট ছাড়া হল।  চলে গেলাম কাঙ্ক্ষিত শুভ লং ঝর্না।

DSC01641 copy

ঝর্না। সবসময় টানে আমায়। এই সময় টা  যদিও পানি খুব বেশী ছিলো না, তবুও এনাফ। ইচ্ছেমতো চুবলাম।

পানি থাকে বৃষ্টির দিনে।

DSC01652 copy

DSC01663 copy

এখান থেকে ফিরে এসে  প্রথমে হোটেল ঠিক করলাম। ৫০০ টাকা/ হোটেল সাংঘাতিক (সাঙ্ঘাই)।

ওখানে পর্যটন মেলা হচ্ছিলো – চলে গেলাম সন্ধ্যায়।  হালকা কেনা কাটার পর গেলাম উপজাতিদের টেক্স টাইল মার্কেট।

২য় দিন সকালে চলে গেলাম রাজবন বিহার।

রাজবন বিহার

Buddhist_Temple_at_Rangamati

রাজবন বিহার

মূল শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত রাজবন বিহার শুধুমাত্র বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্যই নয়; জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলেরই এখানে প্রবেশাধিকার রয়েছে। নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত এ বিহারে দেখা যাবে স্বর্গীয় সিড়ি। ইচ্ছে করলে অনুমতি নিয়ে এখানে উঠাও যাবে। রয়েছে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ধ্যানের বিশাল গর্ত। আরও আছে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন ধর্মীয় মূর্তি। এখানে সপ্ত স্বর্গ নামে একটি সাততলা বিল্ডিং আছে যেটাকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা সাতটা স্বর্গ হিসেবে গণণা করে।

যে জিনিসটি বিশেষ দ্রষ্টব্যজনক সেটি হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্মগুরু শ্রদ্ধেয় সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভন্তে)’র মৃতদেহ ভক্তদের দেখার জন্য সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে।

চাকমা রাজার বাড়ী

বনবিহারের পাশেই আছে চাকমা রাজার বাড়ী ,নৌকা দিয়ে পার হয়ে চলে গেলাম। আমাদের সাথে প্রচুর উপ জাতি ছেলেমেয়ে পার হল। এদের বেশ লাগে দেখতে।  আকা বাকা সিড়ি বেয়ে উপরে উঠলেই দেখতে পাবেন নয়নাভিরাম চাকমা রাজার বাড়ি।

উপজাতীয় টেক্মটাইল মার্কেট

Textile

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা শহরের তবলছড়ির ঠিক আগেই উপজাতীয় টেক্মটাইল মার্কেট অবস্থিত। পার্বত্য এলাকার উপজাতি কর্তৃক তৈরিকৃত বিভিন্র পোশাক এবং হস্তনির্মিত বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্প ক্রয় করা যাবে। পর্যটকদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় স্থান।

44

এবারের ভ্রমণ টি সত্যি অনেক বেশী ই ভালো লাগলো। তবে আরো ভালো লাগতো যদি শুক্রবারে সকালে শুভ লং ঝর্না থেকে একটু দুরে বসা চাকমা দের বাজারে যেতে পারতাম। এই বাজার শুধু শুক্র বারে বসে।  কুছ পরোয়া নেহি। নেক্সট টাইম।

রাঙ্গামাটি/কাপ্তাই (রাঙ্গামাটির ই উপজেলা)/বান্দরবন – এই সব জায়গা গুলোতে আমি সময় পেলেই ছুট দেই। এত সুন্দর প্রাক্রতিক সৌন্দর্য।

আর হ্যাঁ। রাঙ্গামাটি তে আরো অনেক জায়গা আছে।

ভালো কথা ঈদের পর কে কোথায় যাওয়ার প্ল্যান? হ্যাঁ। আপনি চাইলেই ঘুরে আসতে পারেন আপনার ফ্যামিলির সাথে। জানেন তো, এবার ঈদের ছুটি বেশ লম্বা। তাই প্ল্যান করা না হলে, করে ফেলুন ঝটপট। যে কোন তথ্যর জন্য নির্দিধায় যোগাযোগ করবেন।

সবাই কে অগ্রিম ঈদ মোবারক। আনন্দে – ভ্রমনে কাটুক আপনার ঈদ।

সবাই ভালো থাকবেন।

6 comments on “রাঙ্গামাটি (Rangamati)

  1. fazerohithit
    July 27, 2014

    khub valo laglo pore

    Liked by 1 person

    • Hassan Tanvir
      July 28, 2014

      Thank you Rohit vi. Eid er pordin Amiyakhum jaben?

      Like

  2. Tirhara Nabik
    July 28, 2014

    সুন্দর পোস্ট।

    Liked by 1 person

    • Hassan Tanvir
      July 30, 2014

      Thanks! আপনি গিয়েছেন?

      Like

  3. মোঃ কিবরিয়া হাসান
    July 30, 2014

    ছবি ও পোষ্ট দুইটাই অনেক সুন্দর হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, ১২জন বন্ধু মিলে আগামীকাল যাচ্ছি।

    Liked by 1 person

    • Hassan Tanvir
      July 30, 2014

      ফি আমানিল্লাহ। জেনে ভালো লাগলো। ঘুরে আসুন। ভালো লাগবে। এখানে প্রকৃতি অক্রিত্তিম ভাবে সেজে আছে।

      Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Join 262 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: