হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

বান্দরবন সিটি (Bandarban city tour)

ঘুরে এলাম বান্দরবন। অসম্ভব ভালো লাগলো। গিয়েছি নীলগিরি, মেঘলা, নীলাচল, চিম্বুক, মিলঞ্ছড়ি, শৈল প্রপাত, স্বর্ণ মন্দির। নীলগিরি তে মেঘ প্রায় ছুয়ে গেছে। অসাধারণ। কেউ না গেলে বুঝতে পারবে না কি অপেক্ষা করছে সেখানে। আমার জীবনে দেখা সবচে সুন্দর দৃশ্য গুলো দেখলাম। মন তাই অনেক ফুরফুরে। আপনি হয়ত অনেক জায়গায় গিয়েছেন, কিন্তু গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি – বাংলাদেশের আসল সৌন্দর্য বেশিরভাগ ওখানেই লুকিয়ে আছে। বান্দরবনকে বলা হয় প্রকৃতির কন্যা।

কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। দূরে কোথাও থেকে ঘুরে আসুন, যেখানে আপনি মিশে যেতে পারবেন প্রকৃতির মাঝে।

DSC01233

মটর বাইক নিয়ে আমি রওনা দেই সকাল ১০.৩০ মিনিটে। চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৭০ কিলো। ৫০ কিলো গিয়ে কেরানিহাট। তারপর আপনাকে বায়ে টার্ন নিতে হবে। এই পথে আরো ২০ কিলো। নাহলে ভুল করে সামনে চলে যেতে পারেন।

প্রথম ৫০ কিলো রোড সুন্দর। আর বাকি ২০ কিলো (বান্দর বন এলাকা) সেটা আরো সুন্দর।  যাত্রা পথে কোন এক ঘেয়েমি আসবে না। ২ পাশেই সারি সারি গাছ পালা। বলে রাখি, ওই টার্ন টা নিয়ে বা দিকে ঢুকলেই আমার মন আকাশের মেঘ হয়ে যায়🙂 কারন বান্দরবনের নজর কাড়া সব সব সৌন্দর্যের শুরু ওখানেই।

আমরা (সাথে আমার এক বন্ধু) গিয়েই লোকালি খবর নিলাম কোথায় কোথায় যাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আমি বলবো একটা দিন এলাকার আসে পাশে দেখুন,একদিন নীলগিরি, একদিন বগা লেক।

প্রথম দিন আমরা ঠিক করলাম এলাকার আসে পাশে দেখবো। অর্থাৎ, বান্দরবন শহর এর ভেতরেই বা কাছে ধারেই ঘুরবো। যেহেতু খাওয়া দাওয়া সারতে সারতে প্রায় ২ টা বেজে গিয়েছিলো। প্রথমে গেলাম মেঘলা।

মেঘলা (Meghla, Bandarban)

মেঘলা প্রবেশ করতে টিকেট করতে হবে। সম্ভবত ২০ বা ৩০ টাকা টিকেট। সিড়ি ধরে নিচে নেমে যান। বেশ সুন্দর পরিবেশ। বিশেষ করে ফ্যামিলি নিয়ে বেশির ভাগ মানুষ যায় এখানে।

একটা বড় পার্ক। পার্কে বোট আছে (হাস আকারের), আছে ক্যাবল কার। ৩০ টাকা করে টিকিট।

7

ক্যাবল কার

ক্যাবল কার এর চড়ে লেক পার হবেন। ভাল লাগবে।

পাহাড় বেয়ে কিছুটা উঠতে হবে। ওখানে ক্লান্তি দুর করবে পাহাড়ি উপজাতিদের দোকানি দের খিরা, শসা, তরমুজ, পাকা পেপে টাইপের মৌসুমি ফল। ভাল লাগবে সবকিছু। ঘোরাঘুরি শেষে এর পর আমরা চলে গেলাম সর্ন মন্দির।

সর্ন মন্দির (Golden Temple)

এই জায়গা যাওয়ার পথ টা একটু উচুতে। বাইক থেকে নেমে আবার সিঁড়ি বেয়ে কিছুটা উঠেছি। জুতা রেখে ঢুকতে হবে। টিকিট ৩০ টাকা। এমনি তে রিকশা তে চলে যেতে পারেন। মন ভালো হয়ে গেলো। মন্দির একটু উচুতে। বেশ সুন্দর। দুর দূরান্তরের দৃশ্য দেখে নিমিষেই মন ভাল হয়ে যাবে।

DSC_0512

অন্য কিছু না, ভাইয়েরা ছবি তোলার জন্য পোজ দিছে

DSC_0504

DSC_0519

 

এখান থেকে যেতে পারেন রাজবাড়ি। এর পর চলে গেলাম নীলাচল

নীলাচল (Nilachol)

একদম উচুতে কিছু দুর গিয়ে তারপর আকাবাকা পথ। এখানে গিয়ে আপনার পাগল হবার দশা হবে। এত সুন্দর। দেখতে পাবেন মেঘ পাশে দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। যদি আপনার ভাগ্য ভালো থাকে। বৃষ্টির দিন হলে অবশ্য দেখতে পাবেন না দুরের দৃশ্য। ওখানে যখন প্রায় পৌঁছে গেছি – আমাদের নাচতে ইচ্ছে হচ্ছিলো, যে এত দারুন একটা জায়গা। বহুদুরের দৃশ্য দেখে আপনার মন ভরে যাবে।

ও হ্যাঁ। ঢুকতে ২ বার টিকেট কাটতে হবে। একবার গাড়ী বা বাইক নিয়ে গেলে। ২০ টাকা। ২য় বার দিতে হবে ২৫ টাকা জনপ্রতি গেটের কাছে।

6

DSC_0549

DSC05891 copy

এই ছবিটা অতি সম্প্রতি তোলা। এটা ওখানে নতুন বানিয়েছে। নাম “ভেলেন্টাইন”

এখানে রাতের ভিউ ও অনেক সুন্দর হয়। বিকেলের পর বৃষ্টি পড়েছিলো। তাই ছবি দিতে পারলাম না।

এরপর নেমে এসে হোটেল ঠিক করলাম – প্লাজা বান্দর বন। বেশ ভালো হোটেল।

আপডেটঃ এখন অবশ্য নিলাচলে থাকার বেবস্থা করা হয়েছে। নাম “Escape Resort”.

 

DSC05881

Escape Resort

DSC05874 copy

DSC05869

DSC05864যাই হোক, বলছিলাম যেই হোটেলে ছিলাম।  সিজন ছাড়া গেলে দাম করে নেবেন। আমাদের কাছে double room (1 single+1 single bed) চেয়েছিলো ১৩০০ টাকা – পরে ৭০০ টাকায় নিয়ে নেই। (কারন অফ সিজন) এছাড়াও আছে হোটেল হিল টপ। (যেখানে নিয়মিত থাকা হয়)। ৫০০ টাকা/নন এসি (অফ সিজনে)। একটু দাম করে নেবেন। তাও না হলে সোজা আমার রেফারেন্স।😀

Nilgiri-Resort

 

যাই হোক,  রাতটা থেকে খুব ভোরে হোটেল ছেড়ে দিয়ে রওনা দেই নীলগিরি জয় করার জন্য। প্রান আনা যাক গিরি শৃঙ্গে।

এর পর আমি আরো অনেক বার গিয়েছি। প্রতিবার ই নিলাচলে যাই। যাওয়ার চেস্টা করি বিশেষ করে বিকেলে – যেন সানসেট দেখতে পারি। অসাধারন সুন্দর।

নিলাচলের পরিবেশ বেশ ভালো লাগবে। গ্যারান্টি।

নীলগিরি (Nilgiri)

বান্দরবন থেকে প্রায় ৪৬ কিলো পাহাড়ি আকা বাকা পথ বেয়ে। শুকনো খাবার নিয়ে নিলাম। আর মন শক্ত করে নিলাম। কারন বাইক করে যাওয়া শুনেছি বেশ দুঃসাহসের কাজ। রোড ভীষণ রকম আঁকা বাকা উচু নিচ। স্পীড কনট্রল না করতে পারলে বিপদের সম্ভাবনা আছে। পাশে খাদ আর সামনের গাড়ি দেখার উপায় নেই। তাই অনেক সাবধানে চালাচ্ছিলাম প্রতিটা বাকে হর্ন দিয়ে দিয়ে, স্লো করে করে। চারপাশে প্রচুর গাছ পালা। আপনার মন ভরতে থাকবে যত যাবেন।

যাবার ৮ কিলো পরেই পড়ে শৈল প্রপাত

images (1)

নামার লোভ হলে নামুন। কিন্তু ভীষণ সাবধান থাকতে হবে। পাথর গুলো ভীষণ পিচ্ছিল। আমাদের চোখের সামনেই একজন পা ফস্কে পড়ে ঝরনায় ভেসে যায়। অনেক দুর গিয়ে আটকে যায়। সবাই স্তব্ধ হয়ে দেখছিলো। কিন্তু ভয়ে কেউ নিচে নামছিলো না। বিসমিল্লাহ বলে নেমে গেলাম।

তিনি ঝরনার তীব্র স্রোতের মাঝে একটা ফাটলে আটকে ছিলেন। আমি পাগলের মত কিছু একটা খুঝছিলাম। ভাগ্য ভাল একটা বড় লতা পেয়ে গেলাম। হিচড়ে ছিড়ে নিলাম। কিন্তু তার কাছে পর্যন্ত যাচ্ছিলো না। পরে আমার বন্ধু এসে আমার হাত ধরে। আমি আরো নেমে যাই – আর লতা টা ওনাকে দেই, উঠে আসেন অনেক কস্টে। সবাই বেশ বাহবা দিলো। তবে কিছু করতে পেরে ভালো লাগলো। বেচারা বেশ কিছুখন ওই ভীষণ স্রোতের মাঝে আটকে ছিলো।

এবার চলুন নীলগিরি

DSC_0593

DSC_0587

এমনিতেই যেতে পারেন। আর  নতুন বিয়ে করেছেন। তবে তো কথাই নেই। চলে যান নীলগিরি। যেন এক স্বপ্নরাজ্য। সমুদ্র সমতল হতে চব্বিশ শ’ ফুট উপরে আকাশের কোল ঘেঁষে নীলগিরি যেন প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের স্বপ্নরাজ্য। এখানে আকাশ পাহাড়ের সাথে মিতালী করে। মেঘবালিকা চুমু দিয়ে যায় পাহাড়ের চূড়ায়। হাত বাড়ালেই ছোয়া যায় মেঘের পালক। মেঘের দল এখানে খেলা করে আপন মনে। সে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। মনে হবে আপনি উড়ে বেড়াচ্ছেন আকাশের বুকে মেঘের সাথে। আকাশ বাতাস সবুজ আর মেঘের দল লুটোপুটি খায় পদতলে।

DSC_0601

 

নীলগিরি নিয়ে আমার এই পোস্ট টি দেখতে পারেন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Join 262 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: