হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

নাপিত্তাছড়া ঝর্না

 

 

 

 

1

 

নাপিত্তাছড়া ঝর্না

এই ঝর্না আমার লিস্ট এ অনেক দিন থেকেই ছিল। যাওয়া হচ্ছিলো না। আর এবার গিয়েছি – তাও কোন প্ল্যানিং ছাড়া।

এই টুর টা আমি দিয়েছি অক্টোবর ৪ তারিখ (কুরবানির ঈদ – ২০১৪ তে।)

৫ তারিখ যাই এই ঝর্না তে।

আমার ওখানে পৌঁছে শুধু মনে হয়েছে আমি যেন সর্গের এক টুকরোর ভেতর চলে গিয়েছি। সব কিছু ঠিক যেন ছবির মত সুন্দর। বিশাল বিশাল পাথরের চাই এর ভেতর দিয়ে নেমে এসেছে ছড়ার পানি। ২ পাশে উচু পাহাড়ের দেয়ালে চুমু দিয়ে সেটে আছে সবুজ গাছেরা।

এ যেন চির জীবনের মিতালি। এক গাছ থেকে হটাত করে চিৎকার দিয়ে যদি হনুমান লাফ দিয়ে পড়ে অন্য গাছে থাকা কোন বন মোরগ এর ওপর। নানা রকম চেনা অচেনা পাখির কলতান, অরণ্যর নিস্তব্ধতার মাঝে নানা শব্দ, আদিবাসিদের মাছ ধরা আরো কত কি। এ যেন চির চেনা জগত ফেলে অচেনার এক জগত।

5

আচ্ছা শুরু করি তবে। সংক্ষেপে শেষ করবো।

আমি যাত্রা শুরু করি ৪ তারিখ। ৪ দিনের প্ল্যান। বাইক নিয়ে কুমিল্লা পৌঁছে দেখা করি রোহিত ভাই এর সাথে। (তিনি অতি সম্প্রতি ২৪ ঘন্টায় SaddleSore 1000 complete করেন মাসুম ভাইয়ের সাথে। ২ জনে আমার দেখা অনেক টাফ এবং TRUE বাইকার।

অভিনন্দন ২ জনকেই।

যাই হোক, ওনার বাসায় রাত কাটাই।  ওখানে আমার বাইকে সমস্যা দেখা দিলো। তাই সিলেট যাওয়ার প্ল্যান কেন্সেল করে দিলাম। রোহিত ভাই ওখানের একটা গ্যারেজে নিয়ে গেলেন।  গ্যারেজ থেকে মোটামুটি ঠিক করে নিলাম যাতে অন্তত ফিরে আসতে পারি।  রাতে তিনি “ছন্দ হোটেল” এ নিয়ে গেলেন। ওখানের আলু ভর্তার প্রচুর সুনাম আছে। খেয়ে আঙুল চাটলাম ২ জনে। পাশেই দেখলাম প্রচুর গিনিপিগ একটা ঘেরের ভেতর। কি কিউট।

রাতে ওনার বাসায় থাকলাম। ধন্যবাদ মধ্যরাতে ছাদের ওপর চায়ের জন্য।

পরদিন ৭ টায় বিদায় নিয়ে  বাইক নিয়ে যখন মিরের সরাই আসলাম –  মন টানতে লাগলো। আগেই খোজ নিয়ে রেখেছিলাম। তাই খুজে বের করে রওনা দিলাম। গ্রামে বাইক রেখে গাইড ঠিক করলাম। তার বাসায় ব্যাগ ট্যাগ রেখে ট্রেকিং শুরু করলাম। গ্রামের পথ শেষ করে শুরু হলো নাপিত্তাঝরা ঝিরির পথ। ২ পাশেই জঙ্গল।  এই পাহাড়ি পথে ট্রেকিং বেশ বিপজ্জনক – বিশেষ করে ব্রস্টির দিনে পা পিছলে আলুর দম হওয়ার সম্বাবনা আছে।

ঝিরি পথের কি বর্না দেবো। ভীষণ মুগ্ধ ছিলাম পুরোটা পথ।  বন মোরগ আর বানর বা হনুমান এর ফাইট দেখলাম।

2

যাওয়ার জন্য পাহাড় বেয়ে যাওয়া যায়, অথবা সমতলে ঝিরি পথ ধরে।  পাহাড়ি পথ বৃষ্টির দিনে বিপজ্জনক। আমি গিয়েছি ঝিরি ধরে। পাহাড়ি গাইড হলে পাহাড় বেয়ে যেতাম।

২ বার বেচে গিয়েছি পড়তে গিয়েও। ২ টা জায়গায় উঠতে গিয়ে ভয় পেয়েছি। প্রায় খাড়া পাহাড়। লতা পাতা ধরে উঠেছি।

যাই হোক, এখানে যাওয়ার পথে ঝিরির পানিতে দেখলাম আদিবাসি মেয়েরা  আর ছোট ছোট পিচ্চিরা   গোসল করছিলো। অবাক হলাম এদের দেখে। পরে দেখলাম এখানে এদের বসতি আছে। পাহাড়ের উচু তে ঘর বানিয়ে থাকে।

DSC05306

পথে পেলাম কুপিকাটাকুম। এর একটু পরেই প্রথম ঝর্নার কাছে পৌঁছে হা হয়ে গেলাম।  কি সুন্দর।

3

ছোট একটা নায়াগ্রার মত। কল্পনা করে নিলাম বর্শাতে কি পরিমান পানি হতে পারি। ঝ্ররনার পাশ দিয়ে রিস্ক নিয়ে উঠে গেলাম।  উঠে কিছুদুর গিয়ে ঝ্রনাটি পেয়ে মাথা নস্ট হয়ে গেলো। এত সুন্দর। ভাষা হারিয়ে গেলো আমার। দেরি না করে ঝাপিয়ে পড়লাম। তবে সাবধান। এখানের পানি  নীচের ঝ্রনাতে নামছে। স্রোতে ভেসে গেলে পাথরের ফাক গলে বিদেশি ছবির মত নিচে গড়িয়ে গড়িয়ে নিচে গিয়ে পড়তে হবে।

4

পানি কি টলটলে আয়নার মত সচ্ছ। মাছেদের হুটোপুটি চলছে।

ঝ্ররনার পানি নেমে আসছে ভীষণ গর্জনে।

5

২য় ঝর্না – বান্দরকুম

যেতে হলে সাতরে যেতে হবে। কিছু ভয় ভয় লাগছিলো। স্রোতের ধাক্কায় ভেসে গেলে নীচের ঝ্ররনার উপর গড়িয়ে পড়তে হবে। তবে কিছু হয় নি। ভীষণ ভালো লাগলো। অনেক্ষন হুটোপুটি করলাম এই পানিতে।

6

৩য় ঝর্না – বাঘ বিয়ানি

 

খইয়াছড়া গিয়ে অনেক ভালো লেগেছিলো। আর এখানেও ভাল লাগলো। ভীষণ রকম।

দুপুরে খেলাম গাইড এর বাসায়। মাছ, মুরগি আর লইব্বা ছই। খুদার্থ ছিলাম। মনে হল অমৃত খেলাম। বিস্রাম নিয়ে ফিরতি পথ ধরলাম বাইক নিয়ে।

চট্টগ্রাম থেকে যেতে চাইলে মির সরাই,  নয় দুয়ারির হাট থেকে গ্রামে ঢুক্তে হবে। ওখানে গাইড পাওয়া যাবে। ৪/ ৫ শ টাকা দিলেই হবে। ভেতরে দোকান নেই। তাই শুকনো খাবার নিয়ে নিতে পারেন। আর প্লিজ কোন প্লাস্টিক ইত্যাদি ফেলে আসবেন না।

ভয় লাগছে। এর অবস্থাও নাকি খইয়াছড়ার মত হয়ে যায়।

যাক ভালয় ভালয় শেষ হল।

PC: Amin Tanveer (Special thanks)

2 comments on “নাপিত্তাছড়া ঝর্না

  1. Foysal Imran
    October 14, 2014

    শেয়ার করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।। সামনের ডিসেম্বর এ যাওয়ার ইচ্ছা আছে।।

    Liked by 1 person

    • Hassan Tanvir
      October 14, 2014

      আপনাকেও ধনাবাদ। তবে জেনে রাখতে পারেন, বৃষ্টির সিজনে গেলেই ভাল। কারন ঝরনা তে পানি দেখতে পাবেন। ঝিরি পথ টাও সুন্দর থাকে।

      Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

Join 262 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: