হাসান তানভীর এর MOTO-TRAVEL ব্লগ

Its better to travel well, then to arrive – Buddha

টাঙ্গুয়ার হাওঢ় – শ্রীমঙ্গল, বিরিশিরি, লালাখাল ট্যুর / ডিসেম্বর ২০১৬

tea-garden

কিভাবে যেন দিনগুলো কেটে গেলো… বাইকে করে মোট পথ চলেছি ১৮৮৩ কিঃমিঃ।

এবার মটরবাইক করে আমরা গিয়েছি নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমি সিলেট, মন মুগ্ধকর  সারি সারি চা বাগানের ঐশ্বর্য নিয়ে আছে শ্রীমঙ্গল – নীল কন্ঠের সাত রঙের চা প্রথমেই যেন আমন্ত্রণ জানিয়ে বলে এখানে সব কিছুই নয়নাভিরাম ।

 

ছুয়ে এসেছি প্রকৃতি কন্যা খ্যাত জাফলং। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি।

গিয়েছি  সারি নদীর তীরে অবস্থিত লালাখাল।

আমাদের ভ্রমনে আরো জোগ হয়েছে – টাঙ্গুয়ার হাওর – এই সেই টাঙ্গুয়ার হাওর, যেখানে জল আকাশের রং চুরি করে নীলের ভুবন সাজিয়েছে। টাঙ্গুয়ার হাওর। বিশাল এই জলাভূমিতে প্রকৃতি বেড়ে উঠেছে আপন খেয়ালে। এছাড়াও গিয়েছি চীনামাটির খনি – বিরিশিরি তে। প্রেমে মগ্ন পানি ও পাথরের –  রঙ্গিন সাজে সেজে আছে।

টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ি দিয়ে মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে চুমু দিয়ে আছে বিশাল সব পাথর আর নিলাদ্রি লেক যেন সবুজের ভেতর একটুকরো নীল কেক – ইচ্ছে করে কামড় দিয়ে খেয়ে ফেলি। পদ্ম ফুল গুলো চোখ জুড়িয়ে দেবে।

বারেক টিলা তে উঠে আমরা গিয়েছি জাদু কাটা নদী! এ যেন জাদুর নদী। ঠিক ছবি থেকে কেটে নিয়ে বসিয়ে দেয়া হয়েছে।

আরো গিয়েছি লালাখাল – পানির নীল রঙ দেখে যে কারো মনে হতে পারে এর নাম লালাখাল কেন! নীলাখাল হতে পারত! স্থানীয়রাও নামের কারণ বলতে পারেননি। পানির রঙ ও ব্যাখ্যাতীত কারণে অপুর্ব নীল। বাংলাদেশের নীলনদ যেন লালাখাল।

আরো কিছু জায়গা আমাদের ভ্রমণে চলে এসেছে – না চাইতেই আল্লাহ্‌ অনেক জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন – দেখিয়েছেন অপুর্ব সব সৃষ্টি।

 

শুরুর কথা

———-

ফেজার বাইক কিনলাম – ভাল পারফর্মেন্স এর একটা বাইক না থাকার কারনে আমি দূর দুরান্তের ট্যুর গুলো দিতে পারছিলাম না।

কিনেই টেস্ট ড্রাইভ দিলাম রাঙ্গামাটির দিকে। দারুন মজা পেলাম। এবার লং ট্যুর – পাইন্দু সাইতার এ রোহিত ভাই/মাসুম ভাই রা চলে গেলেন – একটা প্রোগ্রাম থাকাতে যেতে পারলাম না। হায় আফসোস। প্রোগ্রাম শেষ – কি করা যায়। ম্যাপ ঘাঁটাঘাঁটি করছি। হটাত ট্রাভেলার্স অব বাংলাদেশে পোস্ট চোখে পড়লো – “একজন টাঙ্গুয়ার হাওরে যেতে চাচ্ছেন” – ঘেঁটে দেখলাম বাইকার। মেসেজ দিলাম। এর পর কথাও হলো। পর দিন যাওয়ার কথা থাকলেও পরে সেইদিন ই রওনা দেয়ার সিদ্ধান্ত হলো। ঠিক হলো তিনি ঢাকা থেকে আর আমি চট্টগ্রাম থেকে এসে কুমিল্লা কেন্টন্তমেন্ট এ দেখা করবো। ওখান থেকে ট্যুর শুরু।

১ম দিন

বিকেল ৫ টায় রওনা দেই চট্টগ্রাম ত্থেকে। কুমিল্লা পৌঁছে শুনী  তিনি আসতে পারেনি। আমাকে মেসেজ করেছিলো। কিন্তু বাইক চালাচ্ছিলাম বলে দেখিনি। – মাসুম ভাই রা ট্রিপ সেরে ব্যাক করতেছিলান – এক্টুর জন্য দেখা হয়নি –   পরে আমি রাতেও আবার রওনা দিয়ে চলে যাই ঢাকা তে। ওখানে কলা বাগানে একটা হোটেলে খেতে বসি – রাত ১০ টা হবে।  এর ভেতর মমিন ভাই চলে আসেন। কথা আর নতুন করে পরিচয় হলো।

 

১ সাথেই খাই চিকেন বিরানি। পরে ২ জন তেল নিলাম পাম্প থেকে –  ওনার বাসায় নিয়ে যান আমাকে। পরিচয় হলো ওনার বড় ভাই এর সাথেও। আমার মত দাড়ি আছে – লন্ডনে ট্রাভেল এজেন্সি তে জব করতেন, আবার বাইকার ও। তাই আলাপ জমে গেলো। ঘুমিয়ে পড়লাম।

২য় দিন


 

সকালে উঠেই নাস্তা করে রেডি হয়ে গেলাম। ২ জনেই এক্সাইটেড। বের হয়ে পিক করে নেয়া হলো ফটোগ্রাফার তাস্রিফ ভাই কে। যাত্রা শুরু। তখন বাজে সকাল ৮ টা।

 

একটানে চলে মাঝে বিরতি দিলাম ভৈরব ব্রিজ এর নিচে। আমাদের ঐদিন দিন সুনাম গঞ্জ হয়ে চলে যাওয়ার কথা । কিন্তু আমি সাজেস্ট করলাম যেহেতু আমরা এই পথে আর ব্যাক করবো না – তাই বেটার শ্রীমঙ্গল চষে যাই।  দুপুর ১২ টার দিকে পৌছাই শ্রীমঙ্গল। চলল ছবি তোলা।

0754

 

img_0815

img_0762

২ টার দিকে পানশি তে লাঞ্চ সেরে নামাজ পড়ে নিলাম। এরপর চা খেয়ে চলে গেলাম নীল কন্ঠে – সাত রঙের চা পান করতে। এবারের চা টা ভাল লেগেছে। গত বার লাগেনি। এই সব জায়গা গুলো তে বাইকিং করতে দারুন লাগছিলো। এখান থেকে চলে গেলাম মাধনব পুর – তখন ৩ঃ৪৫।

 

img_0838

ওখানে লেকের পাড়ে নানা রকম পাখি দেখতে পাচ্ছিলাম – এমন কি খুব কাছে একটা প্যাঁচা ও দেখলাম – এই শুরু হলো প্ল্যানিং – এখানে কি থাকা যাবে? এই লেক তো সব পাখির আড্ডা খান। বিকেলের সোনালি আলোতে আমরা টিলার উপর দিয়ে উঠে অন্য দিক দিয়ে নেমে এলাম। তখন সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। আমরা লেকের পাড়েই নামজ পড়ে নিলাম। আমাদের সাথে একটা ছেলে জুটে গিয়েছিলো।

আমরা শুরু করলাম প্ল্যানিং – কিভাবে রাতে থাকা যায়। এখানে থাকার জন্য এলাকার চেয়ারম্যান, টি গার্ডেন এর ম্যানেজার এর খুজে পাওয়ার জন্য অনেক দূরে একটা  ক্লাব এ যাওয়া আরো বহু কাহিনী।

জতদুর জানি – এখানে এর আগে কেউ ক্যাম্পিং করেনি। সেটাই শুনলাম। এরপর দাদু ভাই আর হামিদ ২ জন হেল্প করলো অনেক। আরো বহু কাঠ খড় পুড়িয়ে তেরপল, রশি, কম্বল, বাঁশ ইত্যাদি যোগাড় করে রওনা দিলাম – তখন রাত ৯ টা।

 

আমরা ৩ জনের সাথে ২ টা ছেলে কে দেয়া হয়েছিলো সেইফটি ইসুর জন্য। যাক আমরা তাঁবু খটানো আর আগুন জালানো তে লেগে গেলাম – অসাধারন কিছু সময় কাটালাম আমরা মাধব পুর লেকের পাড়ে। রাতে লক্ষ লক্ষ তারা – আর শাপলা ভরা  লেকের তীরে আমরা আগুন জ্বালিয়ে গল্প করছি।

 

img_0919

img_1073

 

 

img_1154

৩য় দিন –  ০৭/১২/১৬


 

ভোরে আমাদের আশা ছিলো দারুন কিছু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে – তার চে বেশি আমরা পেয়েছি – প্রথম দিকে কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিলো সম্পুর্ন লেক। ধীরে ধীরে কুয়াশার মেঘ সরতে থাকে – অপুর্ব। আমরা আবার আগুন জ্বালিয়ে নেই। ছবি তোলাও চলে।

img_1230

img_1320

15420988_10208074422922695_4033616005202520391_n

৮ টার দিকে আমরা তাঁবু গুটিয়ে ফেলে রেডি হয়ে মেইন গেটের কাছে যাই – যেখানে আমাদের বাইক গুলো রাখা।

 

এর পর আমরা বের হয়ে যেতে থাকি ভারতের সীমানার দিকে। লেক থেকে ৩/৪ কিলো হবে। দারুন সেই পথ টা। ২ পাশেই সারি সারি চা বাগান। বর্ডারে সেনা ক্যাম্প আছে। ওখানে ভারতে এক পা দিয়ে একটা লাথি মেরে আবার আমরা রওনা দিলাম।

img_1390

চা বাগানে কিছু ছবি তুলে বাগানের পাশেই একটা চা দোকানে তাজা রঙ চা খেয়ে প্রান ভরে গেলো। দারুন স্বাদ। আমাদের বাইকের পাশে সব মানুষ জমে গেলো। আমরা যেন এলিয়েন।

img_1379

এরপর – রওনা দিলাম সিলেটের উদ্দেশ্য। তখন ১০ঃ৩০ । দুপুর ১২ টার দিকে শায়েস্তা খার ব্রিজ এর নিচে দিলাম সিঙ্গারা ব্রেক। এই পথ টুকু তুফানের মত টানি আমি। মমিন ভাই বেচারা পিলিয়ন সহ ১০৭/৮ এ টেনেও একটু পেছনে পড়ে যান। সেই রকম রাস্তা।

আমরা পৌঁছে গেলাম।

লাঞ্চ করে নিলাম ১ঃ৩০ এ। আবারো পানশি। এরপর এক সিলেটি ভাই আমাদের তার বাসায় নিয়ে গেলেন।  লন্ডনে থাকেন। ওনাকে দিয়ে মমিন ভাই তাঁবু আনিয়েছেন লন্ডন থেকে। সেটা কালেক্ট করে নিলেন।  আমাদের ক্যামেরা থেকে ছবি ট্রান্সফারের কিছু কাজ সেরে নিলাম। ৮/১০ রকমের পিঠা দিয়ে মেহমান্দারি করা হলো। আমরা বিশ্রাম নিয়ে নামাজ পড়ে বের হয়ে পড়লাম। তখন ৫ঃ৩০ পথে মাগ্রিব পড়ে যখন যাচ্ছি – দেখি ঘুম আসছে। শীত ও লাগছে। পথে রাস্তার পাশে বাজার থেকে আমি ভেতরে পরার জন্য একটা হুডি জ্যাকেট – আর একটা মাঙ্কি ক্যাপ নিলাম তাশ্রিফ ভাইএর জন্য। বেচারার হেলমেট আনা হয়নি ভুলে। এই ক্যাপ এর কারনে বাকি পথ গুলো তিনি শান্তিতে ছিলেন।

আমরা ৭ টা বাজে লালা খাল পৌঁছে যাই। পাশেই ছিলো নাজিম গর রিসোর্ট এর একটা রিসোর্ট। ওখানে আমি এর মমিন ভাই চেক করার জন্য যাই। মাঠের ভেতর বিশাল তাঁবু। এর ভেতর বিছানা করা। ভাড়া ৫০০০ টাকা। এখানের একটা ছেলের সাথে পরামর্শ করে ঠিক করলাম লালা খালের তীরেই আমরা ক্যাম্পিং করবো।

হোটেলে আগে খাওয়ার অর্ডার দিয়ে আমরা খুব ভাঙ্গা চোরা এক রাস্তা দিয়ে বাইক নদীর পাড়ে নামাই। ক্যাম্পিং করা শুরু করি।

 

১০ঃ৩০ বেজে যায়। এরপর আমরা হোটেলে গিয়ে জম্পেশ খাওয়া দাওয়া করি -= মুরগী, আলু ভর্তা, ডাল দিয়ে।

ফিরে এসে ১১ঃ৩০ এর দিকে দেখি আকাশে হাজার হাজার তারা। পরা আকাশ যেন ছেয়ে ফেলেছে। এর ছবি পড়েছে স্বচ্ছ পানির লালাখালে।

আমরা হেল্প করতে লাগলাম তাশ্রিফ ভাই কে রাতের শব ছবি তোলার জন্য। ওইপাশে নদীর তীরে ২ জন মাছ ধরছিল টর্চ জ্বালিয়ে। তাই অনেক অপেক্ষা করতে হলো। এরপর তাঁবু আর বাইকের লাইটিং করতেও কস্ট হলো। আলো সামান্য বেশি হলেও শট এ প্রচুর আলো চলে আসে।

img_1459

রাত প্রায় ১ টা। ক্লান্ত আমরা নামায পড়ে শুয়ে পড়লাম। মমিন ভাই সাথে সাথে ঘুমিয়ে পড়লেন।  আমরাও ঘুমিয়ে পড়ি। রাত ২ টার দিকে ঘুম ভেঙ্গে যায় কিছু কুকুরের প্রচন্ড ঘেউ ঘেউ শব্দে। এরা তাঁবুর চারপাশে ঘুরপাক খেতে থাকে। আমরা ২ জন ভয়ে কথা পর্যন্ত বলছিলাম না। এরা জন্য তাঁবু ছিড়ে আক্রমন করে – তবেই সারছে। ১০/১৫ মিনিট পর এরা চলে গেলো – আবার কিছুক্ষন পর এসে আবার ডাকাডাকি।

কি এক রাত!!!

img_1419

৪র্থ দিন

পরদিন ভোরে উঠেই চোখ জুড়িয়ে গেলো। শিতের ভ্রমন গুলো তাই মজার। কুয়াশার মিতালী সব কিছুর সাথে। সাথে সুর্জ কিরন মালা যেন কি এক অপুর্ব ছবি আকার জন্য তুলির পরশ বুলিয়ে যান। পানির রঙ অদ্ভুত নীল। আমরা তাঁবুর ভেতর থেকেই উপভোগ করলাম এই মনোরম সৌন্দর্য।

15391239_10208083440748135_7880876095214813123_n

15420861_10208083443148195_422313864990223811_n

15380366_10208083442628182_2157686716360449294_n

এরপর আমাদের গাইড চলে এলো ৭ টার দিকে। ভুলে গেছি বলতে – আমরা কমবল ভাড়া করেছিলাম ৩ টা ৫০০ টাকা দিয়ে। 🙂

এবার নৌকাতে উঠে পড়লাম – চলে গেলাম লালাখালের উত্তর প্রান্তে। ওখানে কয়লা খনি আর ইন্ডিয়া বর্ডার। পানির গাড় নীল রঙ বার বার আমাদের মুগ্ধ করছিল।

15492065_10208083443548205_4854490631719279195_n

img_1612

আর পানির পাশেই খাড়া পাহাড় – যেন খাব্লা দিয়ে নিয়ে নিয়েছে।

পানি এত স্বচ্ছ – আমরা আর থাকতে না পেরে ঝাপিয়ে পড়লাম।

15442228_10208083445588256_8595010792660496862_n

 

প্রায় ২ ঘন্টা কাটিয়ে আমরা এসে তাঁবু গুটিয়ে নাস্তা করে রওনা দিলাম।

15380696_10208083442348175_8390653737900484595_n

আমরা চলে গেলাম সিলেটের জৈন্তাপুর। রাজকুমারি ইরাদেবির রাজ বাড়িতে। এখন ধ্বংস স্তূপ এ পরিনত হলেও বোঝা যায় রাজ বাড়ির অস্তিত্ত।

img_1672 img_1717

img_1703

img_1680

 

এখানে পথের ধারে পড়ে আছে বিশাল সব পাথরখণ্ড, যা বহু আগে মাটি খুঁড়ে পাওয়া গেছে। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এসব একেকটা মেগালিথিক সমাধি। এখানে বলে রাখি, মেগালিথিক হচ্ছে স্থাপনা তৈরির জন্য ব্যবহৃত বিশাল সব পাথরখন্ড। সিমেন্ট ব্যবহার না করে কেবল পাথর দিয়ে তৈরি হয় একেকটা মেগালিথিক, যার নিদর্শন আপনি এই জৈন্তাপুরে এলে দেখতে পাবেন। জৈন্তাপুরের রাজকীয় স্থাপনা বা পুরাকীর্তি আমাদের দেশের পুরাকীর্তিগুলোর একটি। এখানে রয়েছে জৈন্তেশ্বরী বাড়ি বা দরবার হল।

এখান থেকে এবার রওনা দিলাম জাফ্লং এর উদ্দেশ্য।

জাফ্লং এর পথ – অসাধারন। কার্পেট স্মুথ। দূরে ভারতের পাহাড়ের সারি – মাঝে মাঝে বিশাল ঝ্রনাও চোখে পড়বে। বাইক চালাতে ভাল লাগছিলো।

img_1725

 

জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মওসুমের সৌন্দর্যের রুপ ভিন্ন। বর্ষায় জাফলং এর রুপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে। ধূলি ধূসরিত পরিবেশ হয়ে উঠে স্বচ্ছ। স্নিগ্ধ পরিবেশে শ্বাস-নি:শ্বাসে থাকে ফুরফুরে ভাব। খাসিয়া পাহাড়ের সবুজাভ চূড়ায় তুলার মত মেঘরাজির বিচরণ এবং যখন-তখন অঝোরধারায় বৃষ্টি পাহাড়ি পথ হয়ে উঠে বিপদ সংকুল-সে যেন এক ভিন্ন শিহরণ। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার ফুট উপর থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণাধারার দৃশ্য যে কারোরই নয়ন জুড়ায়।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, হাজার বছর ধরে জাফলং ছিল খাসিয়া জৈন্তা-রাজার অধীন নির্জন বনভূমি। ১৯৫৪ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর খাসিয়া জৈন্তা রাজ্যের অবসান ঘটে। তারপরও বেশ কয়েক বছর জাফলংয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পতিত পড়ে রয়েছিল। ব্যবসায়ীরা পাথরের সন্ধানে নৌ পথে জাফলং আসতে শুরু করেন। পাথর ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকায় গড়ে উঠে নতুন জনবসতিও। আশির দশকে সিলেটের সাথে জাফলং এর ৫৫ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে জাফলংয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের কথা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পাশাপাশি প্রকৃতিপ্রেমীরাও ভিড় করতে থাকেন জাফলংয়ে। জাফলং এখন দেশের সেরা পর্যটন স্পট।

 

জাফ্লং ডোকার সময় প্রচুর বালি উড়তে দেখলাম – ট্রাক বালু পাথর নিয়ে যায়, তাই।

img_1788

img_1919

জাফ্লং থেকে ৩ টায় রওনা দিয়ে সন্ধ্যায় সিলেট এসে পউছালাম। এসেই পানশি তে ভরপুর খেলাম। মেনু ছিলো স্পেশাল নান, চিকেন চাপ, বটি কাবাব, অরেঞ্জ জুস, চা। চাপ টা অসাধারণ লাগলো।

মমিন ভাই/তাশ্রিফ ভাই এক বড় ভাইয়ের অফিসে গেলেন – যিনি কম্পিউটার বেবস্থা করে দেবেন আর হোটেল ও।

ওখানে দেরি দেখি আমি ঘুরতে বের হয়ে গেলাম। কিছু কেনা কাটা করলাম জিন্দা বাজার থেকে।

অবাক লাগলো।  এক সাথে এতো বিশাল বিশাল রঙ বেরং এর দোকান আর প্রচুর মার্কেট তো চিটাগাং ও নেই। দাম ও দারুন রকম চওড়া। পরে বুঝলাম লন্ডন বাসি রা ভালই যাতে মার্কেটিং করতে পারে তাই…

আমি LOTO ভক্ত। তাই পানির এক বটল, ২ জোড়া মৌজা, বডি স্প্রে আর স্নেকারস কিনলাম। পেলাম না থ্রি কোয়ার্টা শর্টস আর বাইকের জন্য ভাল ফগ লাইট। এখানে মবিল চেঞ্জ করে নিলাম।

পরে আমরা হোটেলে চেকিং করলাম। সালসাবিল। ভালই।

ফ্রেশ হয়ে কিছু গলপ করে শুয়ে পড়লাম। সামনে আছে অনেক সফর।

৫ম দিন


উঠে রেডি হয়ে নিলাম।

img_1961

চলবে …

 

PS: I will upload more photos soon….

 

Riders:

Hassan Mahmud Tanvir

Abdullah Al Momin

 

Click:

Tasrif Hasan

Join 259 other followers

Contact Info

Email: black_guiter@hotmail.com Skype: hassan.tanvir1
copyright @ hassantanvir.wordpress.com 2015
%d bloggers like this: