নীলগিরি

নীলগিরি

নীলগিরি আমি অনেক বার গিয়েছি আমার প্রিয় বাইক টি নিয়ে। কিন্তু আজো ভুলিনি প্রথম বারের অভিজ্ঞতা। অসাধারন সেই অনুভুতি। সেই কথা গুলো শেয়ার করতে চেস্টা করবো।

DSC_0593

Road to Nilgiri

DSC_0587

আকাবাকা পথে মন হারিয়ে যাবে বারবার।

ঘোরার জন্য এমনিতেই যেতে পারেন। আর  নতুন বিয়ে করেছেন। তবে তো কথাই নেই। চলে যান নীলগিরি। যেন এক স্বপ্নরাজ্য। সমুদ্র সমতল হতে চব্বিশ শ’ ফুট উপরে আকাশের কোল ঘেঁষে নীলগিরি যেন প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের স্বপ্নরাজ্য। এখানে আকাশ পাহাড়ের সাথে মিতালী করে। মেঘবালিকা চুমু দিয়ে যায় পাহাড়ের চূড়ায়। হাত বাড়ালেই ছোয়া যায় মেঘের পালক। মেঘের দল এখানে খেলা করে আপন মনে। সে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। মনে হবে আপনি উড়ে বেড়াচ্ছেন আকাশের বুকে মেঘের সাথে। আকাশ বাতাস সবুজ আর মেঘের দল লুটোপুটি খায় পদতলে।

DSC_0601

প্রথম দর্শন – এবং প্রেম। পাগল হয়ে গেলাম যেন মেঘের ওপর গিয়ে। এত সুন্দর!!!

DSC_0585

DSC_0632

বান্দরবন হতে মাত্র ৫২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই স্বর্গদ্যান। পাহাড়ের গা বেয়ে উপরে ওঠা যেমন রোমাঞ্চকর, পাহাড়ে চূড়া যেন আরও বেশি। এখানে যাবার জন্য একমাত্র বাহন হলো চান্দেরগাড়ী। ভাড়া ২০০০-২৫০০ টাকা। কিন্তু অদ্ভুত সে যাত্রা। আলীকদম হতে থানচীগামী রাস্তা ধরে আপনি পৌঁছে যেতে পারেন নীলগিরি।

যেতে যেতে দুরের দৃশ্য দেখে বারবার ছবি তুলতে ইচ্ছে হবে। আর এক সময় হতম্ভব হয়ে গেলাম কাছেই মেঘ দেখে।

এভাবেই পৌঁছে গেলাম। ৩ টি কটেজ আছে। আগে থেকে বুক করে না গেলে রুম পাবেন না (যদি থাকার ইচ্ছে থাকে) উপরে নীলগিরি হিল রীসোর্ট। সেনা বাহিনির করা। রাস্তা তেই মাথা অর্ধেক নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো – এবার পুরা হলো।

এত সুন্দর! এত সুন্দর।!! কল্পনার মত জায়গা। ইচ্ছে মত ছবি তুলতে লাগলাম।

DSC_0629 DSC_0624 DSC_0614

 

এবার চলুন বান্দরবন। আসলে এখান থেকেই লিখাটি শুরু করা দরকার ছিলো। কারন নীলগিরি জাবার আগে আপনাকে বান্দরবন পউছাতে হবে।

ঘুরে এলাম বান্দরবন। অসম্ভব ভালো লাগলো। গিয়েছি নীলগিরি, মেঘলা, নীলাচল, চিম্বুক, মিলঞ্ছড়ি, শৈল প্রপাত, স্বর্ণ মন্দির। নীলগিরি তে মেঘ প্রায় ছুয়ে গেছে। অসাধারণ। কেউ না গেলে বুঝতে পারবে না কি অপেক্ষা করছে সেখানে। আমার জীবনে দেখা সবচে সুন্দর দৃশ্য গুলো দেখলাম। মন তাই অনেক ফুরফুরে। আপনি হয়ত অনেক জায়গায় গিয়েছেন, কিন্তু গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি – বাংলাদেশের আসল সৌন্দর্য বেশিরভাগ ওখানেই লুকিয়ে আছে। বান্দরবনকে বলা হয় প্রকৃতির কন্যা।

কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। দূরে কোথাও থেকে ঘুরে আসুন, যেখানে আপনি মিশে যেতে পারবেন প্রকৃতির মাঝে।

DSC01233

মটর বাইক নিয়ে আমি রওনা দেই সকাল ১০.৩০ মিনিটে। চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৭০ কিলো। ৫০ কিলো গিয়ে কেরানিহাট। তারপর আপনাকে বায়ে টার্ন নিতে হবে। এই পথে আরো ২০ কিলো। নাহলে ভুল করে সামনে চলে যেতে পারেন।

প্রথম ৫০ কিলো রোড সুন্দর। আর বাকি ২০ কিলো (বান্দর বন এলাকা) সেটা আরো সুন্দর। যাত্রা পথে কোন এক ঘেয়েমি আসবে না। ২ পাশেই সারি সারি গাছ পালা।

আমরা (সাথে আমার এক বন্ধু) গিয়েই লোকালি খবর নিলাম কোথায় কোথায় যায়। এক্ষেত্রে আমি বলবো একটা দিন এলাকার আসে পাশে দেখুন, একদিন নীলগিরি, একদিন বগা লেক।

প্রথম দিন আমরা ঠিক করলাম এলাকার আসে পাশে দেখবো। যেহেতু খাওয়া দাওয়া সারতে সারতে প্রায় ২ টা বেজে গিয়েছিলো। প্রথমে গেলাম মেঘলা।

মেঘলা

একটা বড় পার্ক। পার্কে বোট আছে (হাস আকারের), আছে ক্যাবল কার। ৩০ টাকা করে টিকিট।

7

ক্যাবল কার

এর পর আমরা চলে গেলাম সর্ন মন্দির

সর্ন মন্দির (Golden Temple)

DSC_0512

অন্য কিছু না, ভাইয়েরা ছবি তোলার জন্য পোজ দিছে

 

DSC_0519

জুতা রেখে ঢুকতে হবে। টিকিট ৩০ টাকা। এমনি তে রিকশা তে চলে যেতে পারেন। মন ভালো হয়ে গেলো। মন্দির একটু উচুতে। বেশ সুন্দর।

এখান থেকে যেতে পারেন রাজবাড়ি। এর পর চলে গেলাম নীলাচল

নীলাচল

6

DSC_0549

একদম উচুতে কিছু দুর গিয়ে তারপর আকাবাকা পথ। এখানে গিয়ে আপনার পাগল হবার দশা হবে। এত সুন্দর। দেখতে পাবেন মেঘ পাশে দিয়ে উড়ে যাচ্ছে। যদি আপনার ভাগ্য ভালো থাকে। বৃষ্টির দিন হলে অবশ্য দেখতে পাবেন না দুরের দৃশ্য। ওখানে যখন প্রায় পৌঁছে গেছি – আমাদের নাচতে ইচ্ছে হচ্ছিলো, যে এত দারুন একটা জায়গা। বহুদুরের দৃশ্য দেখে আপনার মন ভরে যাবে।

এখানে রাতের ভিউ ও অনেক সুন্দর হয়। বিকেলের পর বৃষ্টি পড়েছিলো। তাই ছবি দিতে পারলাম না।

এরপর নেমে এসে হোটেল ঠিক করলাম – প্লাজা বান্দর বন। বেশ ভালো হোটেল। তবে সিজন ছাড়া গেলে দাম করে নেবেন। আমাদের কাছে double room (1 single+1 single bed) চেয়েছিলো ১৩০০ টাকা – পরে ৭০০ টাকায় নিয়ে নেই। এছাড়াও আছে হোটেল হিল বার্ড।

রাতটা থেকে খুব ভোরে হোটেল ছেড়ে দিয়ে রওনা দেই নীলগিরি জয় করার জন্য। প্রান আনা যাক গিরি শৃঙ্গে।

নীলগিরি

বান্দরবন থেকে প্রায় ৪৬ কিলো। শুকনো খাবার নিয়ে নিলাম। আর মন শক্ত করে নিলাম। কারন বাইক করে যাওয়া বেশ দুঃসাহসের কাজ। রোড ভীষণ রকম আঁকা বাকা উচু নিচ। স্পীড কনট্রল না করতে পারলে বিপদের সম্ভাবনা আছে। পাশে খাদ আর সামনের গাড়ি দেখার উপায় নেই। তাই অনেক সাবধানে চালাচ্ছিলাম প্রতিটা বাকে হর্ন দিয়ে দিয়ে, স্লো করে করে। চারপাশে প্রচুর গাছ পালা। আপনার মন ভরতে থাকবে যত যাবেন।

যাবার ৮ কিলো পরেই পড়ে শৈল প্রপাত

images (1)

নামার লোভ হলে নামুন। কিন্তু ভীষণ সাবধান থাকতে হবে। পাথর গুলো ভীষণ পিচ্ছিল। আমাদের চোখের সামনেই একজন পা ফস্কে পড়ে ঝরনায় ভেসে যায়। অনেক দুর গিয়ে আটকে যায়। সবাই স্তব্ধ হয়ে দেখছিলো। কিন্তু ভয়ে কেউ নিচে নামছিলো না। বিসমিল্লাহ বলে নেমে গেলাম। তিনি ঝরনার তীব্র স্রোতের মাঝে একটা ফাটলে আটকে ছিলেন। আমি পাগলের মত কিছু একটা খুঝছিলাম। ভাগ্য ভাল একটা বড় লতা পেয়ে গেলাম। হিচড়ে ছিড়ে নিলাম। কিন্তু তার কাছে পর্যন্ত যাচ্ছিলো না। পরে আমার বন্ধু এসে আমার হাত ধরে। আমি আরো নেমে যাই – আর লতা টা ওনাকে দেই, উঠে আসেন অনেক কস্টে। সবাই বেশ বাহবা দিলো। তবে কিছু করতে পেরে ভালো লাগলো। বেচারা বেশ কিছুখন ওই ভীষণ স্রোতের মাঝে আটকে ছিলো।

 

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s